<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Faruk Munir</title>
	<atom:link href="https://farukmunir.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://farukmunir.com</link>
	<description>Journalist</description>
	<lastBuildDate>Tue, 12 Dec 2023 19:28:41 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.4.2</generator>
	<item>
		<title>অধিকার বঞ্চিত শিশু—‘গাম বয়’, তৈরি করছে নাগরিক ঝুঁকি</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/12/10/%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/12/10/%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 10 Dec 2023 19:31:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Exclusive]]></category>
		<category><![CDATA[Features]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1431</guid>

					<description><![CDATA[পরিবারের ছায়াহীন, অধিকার বঞ্চিত শিশুদের একটা বড় অংশ ড্যান্ডি বা গাম আসক্ত। তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা এখনও পর্যন্ত বড় কোনো প্রকল্প হাতে নেয়নি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে কাজ করলেও তা ওই শিশুদের সংখ্যার তুলনায় একেবারেই নগন্য। গাম আসক্ত শিশুদের বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাজ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/12/10/%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ae/"> <span class="screen-reader-text">অধিকার বঞ্চিত শিশু—‘গাম বয়’, তৈরি করছে নাগরিক ঝুঁকি</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>পরিবারের ছায়াহীন, অধিকার বঞ্চিত শিশুদের একটা বড় অংশ ড্যান্ডি বা গাম আসক্ত। তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা এখনও পর্যন্ত বড় কোনো প্রকল্প হাতে নেয়নি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে কাজ করলেও তা ওই শিশুদের সংখ্যার তুলনায় একেবারেই নগন্য। গাম আসক্ত শিশুদের বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাজ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে তাদের কাজ নয়। চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কয়েকজন বড় অপরাধীর বেড়ে ওঠা এবং তাদের শৈশব সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে—সংস্থাগুলোর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগে এই ড্যান্ডি বা গাম আসক্তি দিয়ে তাদের অপরাধ জগতে প্রবেশ।। দৈনিক চট্টগ্রাম খবর বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিমার্জিত প্রতিবেদন—অধিকার বঞ্চিত শিশু—‘গাম বয়’তৈরি করছে নাগরিক ঝুঁকি।</p>
<p>ড্যান্ডি বা গাম কি? গাম সম্পর্কে মেডিসিন ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী তার এক প্রবন্ধে লিখেন—‘ড্যান্ডি হল এক প্রকার গ্লু গাম বা আঠা জাতীয় উদ্বায়ী পদার্থ বা সাধারণ তাপমাত্রায় সহজেই বাষ্পে বা ধূম্রে পরিণত হয়। সাধারণত চার প্রকার জৈব যৌগ যথা—টলুইন, বেনজিন, অ্যাসিটোন ও কার্বন ট্রাই ক্লোরাইড এই গাম জাতীয় পদার্থে বিদ্যমান থাকে। বিভিন্ন প্রকার রাবার ও চামড়া জাতীয় পদার্থ যেমন- জুতা, চাকার রাবার-টিউব প্রভৃতির মেরামতকল্পে সংযোজক কারক হিসেবে এর বহুল ব্যবহার বিদ্যমান। এই প্রকার উদ্বায়ী গাম জাতীয় পদার্থ বাষ্প বা ধূম্রাকারে গন্ধ শুকা বা শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে শ্বসনতন্ত্র হয়ে রক্তের মাধ্যমে মানব মস্কিষ্কে প্রবেশ করে, প্রথমে জাগায় আনন্দের শিহরশ আর অনিয়ন্ত্রিত উম্মাদনা, পরবর্তীতে তাহা দেহে আনে এক শিথীলতার ভাব। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই পদার্থের অপব্যবহারের ফলে এর প্রতি সৃষ্টি হয় এক চরম আসক্তি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যা ‘গ্লু স্নিফিং’বা বাংলায় ‘গ্লু গাম শুকা’নামে পরিচিত। আর সাধারণ মানুষ ও নেশাগ্রস্তদের নিকট ইহা ড্যান্ডি নামে পরিচিত।’</p>
<p>গাম বয় থেকে চোরের দলের দলপতি হানিফ<br />
৯০ দশকের শুরুতে কোনো এক বিকেলে মায়ের সঙ্গে রাগ করে কুমিল্লা রেল স্টেশনে এসে ঘুরাঘুরি করেছিলো ৭ থেকে ৮ বছর বয়সের একটি শিশু। প্রথম যে ট্রেনটি ফ্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায় সেটিতে উঠে সে। ট্রেন এসে রাতের বেলায় থামে চট্টগ্রাম স্টেশনে। ভিক্ষায় অনভ্যস্থ শিশুটি এর কাছে, ওর কাছে হাত পাতে। ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীরা গন্তব্যে ছুটে, শিশুটির দিকে তাকানোর কারো ফুসরৎ নেই।</p>
<p>ধীর কদমে ছেলেটি ফ্ল্যাটফর্মের বাইরে পা বাড়ায়। গিয়ে থামে স্টেশন রোড মসজিদের পাশের একটি সাইকেল দোকানের সামনে। মালিকের ঘরে ফেরার তাড়া। শিশুটি হাত পাতে, মালিকের মায়া হয়। তিনি রাতের খাবারের ব্যবস্থা করে তার ঘরে ফিরে যান। রাতের খাবার খেয়ে শিশুটি আবার ফ্ল্যাটফর্মে ফিরে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া ক্লান্ত শরীর, শিশুটির শরীর তখন বিশ্রাম খুঁজছিলো। কিন্তু মায়ের স্নেহের ছায়া থেকে বের হওয়া শিশুটির স্থান হলো চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের পুরাতন ভবনের বারান্দায়।</p>
<p>পরদিন আবার গেলো রাতের খাবার দেয়া সেই দোকানে। দোকানদার কাজের বিনিময়ে তাকে রেখে দিলেন। সাইকেল মেরামতের কাজ শুরু হলো কচি হাতে। সাইকেল মেরামত করতে গিয়ে সলিউশন গামের ঘ্রাণ তার প্রথম দিকে অস্বস্তি লাগলেও এক পর্যায়ে সেই গামের ঘ্রাণ ছাড়া শিশুটির আর চলে না। দরকার-বেদরকারে শিশুটি সলিউশন গামের ঘ্রাণ শুকে। এভাবে সে আসক্ত হয়ে যায় সলিউশন গামে।</p>
<p>সে দিনের কুমিল্লা রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে চট্টগ্রাম আসা শিশুটি আজকের দুই ডজন মামলার আসামি হানিফ ওরফে হাতকাটা হানিফ। সেই নব্বইয়ের দশকেই সাইকেল গ্যারেজে কাজ করে ঘুমানোর পর রাতের বেলায় ঘুমের ঘোরে আগুনে পুড়ে যায় তার হাত। চিকিৎসকরা তার হাত কেটে জীবন বাঁচান। সেই থেকে তার নামের সাথে যুক্ত হয়ে যায় হাতকাটা শব্দটি, সে এখন হাতকাটা হানিফ।<br />
গ্রামের সেই ছোট্ট হানিফ এখন পুলিশের খাতায় দেশের শীর্ষস্থানীয় চোর এবং চোরদের সর্দার। বাসাবাড়ি কিংবা অফিসের গ্রিল কাটায় নানান প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশকেও তাক লাগিয়ে দিয়েছে হানিফ। চট্টগ্রাম নগর ছাড়াও সারা দেশে তার হাতে গড়া কিশোর অপরাধী আছে শতাধিক। যারা চুরি, ছিনতাই করে হানিফের আশ্রয়ে থাকে।</p>
<p>পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হানিফ জানায়, সলিউশন গামের ঘ্রাণে তার নেশা হতো। এরপর সাইকেল মেরামতের টাকায় তার খানা-পিনা চললেও নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরির পথ বেছে নেয়। চুরির পর ছিনতাইয়ে যুক্ত হয়। প্রথম দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার স্টেশন রোড অর্থাৎ নিউ মার্কেট মোড় থেকে কদমতলী মোড় পর্যন্ত তার সীমানা ছিল। বর্তমানে দেশের রেল যোগাযোগ যেসব জেলায় আছে তার সব জেলার পাশাপাশি ভোলা, বরিশাল, খুলনা অঞ্চলেও তার হাতে প্রশিক্ষিত গ্রিল কাটা চোর আছে। আছে পাহাড়ি জেলাগুলোতেও।</p>
<p>মৃত্যুই ১৭ মামলা থেকে খালাস দিলো গাম আসক্ত মামুনকে<br />
১৭ বছরের কিশোর মো. ইব্রাহিম। চট্টগ্রাম রেল স্টেশন পাড়ায় তাকে মামুন নামে সবাই চিনে। বয়সে কিশোর হলেও প্রাপ্ত বয়স্ক অনেক পেশাদার অপরাধীর কাছে সে ছিল অপরাধের ‘গুরু’। তার ক্ষিপ্রগতির ছিনতাই, চুরির কৌশল পুলিশ কর্মকর্তাদেরও অবাক করে দিতো। কাকতালীয় বিষয় হলো বয়সের সমানই তার মামলার সংখ্যা! অপ্রাপ্ত বয়স্ক বলেই আইনের ফাঁক গলে ছাড়া পেয়ে যেতো। ড্যান্ডি বা গাম সেবন করে ছোট-খাটো অনেক অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিল মামুন। আদালতের আদেশে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়েও লাভ হয়নি। বের হয়ে আবার জড়াতো অপরাধে।</p>
<p>চট্টগ্রাম নগর পুলিশ—সিএমপির কোতোয়ালী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার অতনু চক্রবর্তী চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইনে ইব্রাহিম প্রকাশ মামুনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা আছে। ট্রেনে কাটা পড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায় মামুন। ১১ এপ্রিল সাগরিকা ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়েছিল মামুন। চিনকি আস্তানায় ট্রেন থেকে পড়ে পায়ে মারাত্মক আঘাত পায়। তাকে উদ্ধার করে পুলিশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।<br />
চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে একটি পা কেটেও ফেলেন। রক্ত দরকার ছিল মামুনের, সেটিও দ্রুত ম্যানেজ হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি মামুনকে। মৃত্যুর পাঁচ মিনিট আগেও স্বজনদের সাথে স্বাভাবিক কথা বলেছিল মামুন। একটি পা হারিয়ে হয়তো বাঁচতে চেয়েছিল অপরাধ ছেড়ে। কিন্তু ১২ এপ্রিল মারা যায় মামুন। কোতোয়ালী থানাধীন পুরাতন স্টেশন এলাকায় জানাজা শেষে পাশের কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়।</p>
<p>মামুনের মৃত্যুতে আইন অনুযায়ী পুলিশের খাতায় তার নামে থাকা মামলাগুলো থেকে সে খালাস পাচ্ছে। কিন্তু মামুনের অপর দুই ভাই ইমরান, বশির, মা নাসিমা বেগম, বোন তানিয়া, মৌরমী, পিংকিও পুলিশের খাতায় অপরাধী। সবাই বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন।</p>
<p>মামুনের দুর্ঘটনা নিয়ে তার সহযোগীদের বরাতে কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক মোমিনুল হাসান বলেন, স্টেশনের রোড়ে চুরি-ছিনতাইয়ে সিদ্ধহস্ত মামুন হয়তো এবার ট্রেনে মোবাইল বা মালামাল ছিনতাই বা চুরি করতে গিয়েছিল। কারণ মামুনের বাড়ি ঢাকা, সাগরিকা ট্রেনটি গন্তব্য চাঁদপুর। তার সহযোগীরা বলছে মামুন ফেনীর উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠেছিল। গামে আসক্তি ছিল তার। কিন্তু ফেনী পৌঁছার আগেই ট্রেন থেকে পড়ে যায় বা কেউ ফেলে দেয়। এমনও হতে পারে আসক্ত থাকায় ব্যালেন্স রাখতে না পেরে পড়ে গেছে। আহত অবস্থায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুন মারা যায়।</p>
<p>মামুনের পিতার নাম কলোন মিয়া। ঢাকার শ্যামপুর থানার পোস্তাগোলায় তাদের পৈত্রিক নিবাস। কলোন মিয়া বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান। কিন্তু মামুনের মৃত্যুর নির্মমতা তার সহযোগীদের অপরাধ থেকে দূরে সরাবে কিনা সেটা সময় সাপেক্ষ বিষয় হলেও জানাজায় এসে মামুনের জন্য কাঁদতে দেখা যায় তার গাম সেবনের সহযোগী—সমবয়সীদের।</p>
<p>কোতোয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মামুনের বড় দুই ভাই ইমরান, বশির, মা নাসিমা বেগম, বোন তানিয়া, মৌরমী, পিংকির নামে মাদক বেচা-কেনা, চুরি ও ছিনতায়ের অভিযোগে থানায় দেড় ডজনের বেশি মামলা আছে। মামুনের পিতা কলোন মিয়া তার যৌবনে চট্টগ্রাম আসে। বরিশাল কলোনিতে বসবাস করতো। বরিশাল কলোনি থেকে মাদকের আখড়া উচ্ছেদের পর তারা স্টেশনের বস্তিতে এসে বসতি গড়ে। এখানে এসেও তারা মাদক ছাড়তে পারেননি।</p>
<p>পুলিশ জানায়—মাদকাসক্ত বলে নারীদের কেউ কোনো বাসা-বাড়িতে কাজ পায় না। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর এসে আবার জড়ায় অপরাধে। পরিবারের পুরুষরা স্টেশনে চুরি-ছিনতাই করে। চট্টগ্রামে অপরাধ করে কুমিল্লা, চাঁদপুর অথবা ঢাকা, সিলেট চলে যায়। কয়েক দিন পর ফিরে আবার একই অপরাধ করে। এভাবে চলতে থাকে তাদের অপরাধ চক্র।</p>
<p>মামুনের মৃত্যুর সপ্তাহ না যেতেই তার ৮ সহযোগী পুলিশের জালে<br />
২১ বছরের যুবক অপু—ছিনতাইকারীদের গ্যাং লিডার। তার টিমের সদস্যদের একজন ছিল ১১ এপ্রিল ট্রেনে কাটা পড়ে পা হারিয়ে ১২ এপ্রিল মারা যাওয়া মামুন। নগরীর পুরাতন স্টেশনে মামুনের জানাজায় অপুর দলের যারা জামিনে আছে সবাই উপস্থিত ছিল। জানাজার পর মামুনের দাফন শেষে সবাই জিআরপি ফাঁড়ির সামনের দোকানে আসে। কেউ কেউ চোখের পানি মুছতেছিল। এক পুলিশ কর্মকর্তা মামুনের দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কেউ কেউ ডুকরে কেঁদে ওঠে।</p>
<p>কিন্তু সহযোগীর মৃত্যুও তাদের থামাতে পারেনি। আগের মতোই তারা সন্ধ্যা নামতেই ৩-৪ জনে উপগ্রুপে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এরপর সুযোগ বুঝে হরেক রকম টিপ ছুরি ঠেকিয়ে পথচারীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেয় টাকা-স্বর্ণসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে স্টেশন রোড এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে তার দুই ঘন্টা পর ১১টার দিকে কোতোয়ালীর পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে ৮ জনকে টিপ ছুরিসহ আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। সেখানে দলপতি অপু তার সহযোগী আব্দুল কুদ্দুস রুবেল (২৮), মো. আব্দুল রাজ্জাক (২৮), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০), নুর নেওয়াজ (১৯), মো. শুক্কুর (২২), মো. রায়হান ওরফে লালু (২০) ও মো. আলাউদ্দিনকে (২৭) নিয়ে আরও ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো বলে জানায় পুলিশ।</p>
<p>পুলিশ আরও জানান, বাসে মোবাইল ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে জানালা দিয়ে সেকেন্ডেই মোবাইল নিয়ে মানুষের ভিড়ে মিশে যায় গ্রুপের সদস্যরা। ১টি গ্রুপ টিপ ছুরির ভয় দেখিয়ে সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেল যাত্রী, সিএনজি যাত্রীদের পথরোধ করে এবং পথচারীদের নগদ টাকা, মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়।</p>
<p><strong>ছিনতাইয়ের টাকার একটা অংশ অপু লগ্নি করে শিশুদের ড্যান্ডি সেবনে</strong><br />
এই দলের দলপতি অপু তার চেয়ে বয়সের দ্বিগুণ ছিনতাইকারীদের দলে লালন-পালন করে। তার বিরুদ্ধে সবচে বড় অভিযোগ—স্টেশন এলাকার ছোট ছোট শিশুদের গাম আসক্ত করতে সহযোগিতা করার। নিউ মার্কেট গোল চত্ত্বরে ৮-১০ জনের ছোট ছোট শিশু পলিথিনে গাম নিয়ে গামের ঘ্রাণ নিচ্ছিলো। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—তাদের গামের টাকা অপু এবং তার সহযোগীরা সরবরাহ করে। অপু কেন টাকা দেয়? জানতে চাইলে শিশুরা জানায়—তারা অপু এবং তার দলের অপর সদস্যদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে। কী তথ্য দাও তোমরা? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়—কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে তারা চিনে। সেই কর্মকর্তারা যদি নিউ মার্কেট এলাকায় আসে মুহূর্তেই খবর পাঠিয়ে দেয় অপু এবং তার দলের কাছে।</p>
<p>অপুকে কীভাবে খবর দাও? তাদের উত্তর—‘অপু ভাইয়া সবসময় আমাদের সামনে আসেন না। কেউ একজন আমাদের ওপর নজর রাখেন। আমরা ইশারা করলে তিনি চিনেন। তিনিই অপু ভাইয়াকে খবর দেন যে পুলিশ আসছে। যিনি নজর রাখেন তিনি আপনাকেও দেখছেন। আপনি কী কথা বলছেন তা আমাদেরকে আবার জিজ্ঞেস করবে, চলে যান।’</p>
<p>অপু এবং তার দল সম্পর্কে কোতোয়ালী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিন বলেন, অপু নিজেও আরেকজনের সৃষ্টি। শুধু অপু নয় বরিশাল কলোনির সেই ফারুক, ইউসুফ, পিচ্ছি আলো থেকে শুরু করে পুলিশের খাতায় শীর্ষ অপরাধীদের বেশিরভাগ উঠে এসেছে রেল স্টেশন থেকে। কেউ কুলি ছিল, কেউ ভিক্ষুক। এরা সবাই গাম আসক্ত হয়েছিল। গামের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে প্রথমে চুরিতে হাতেখড়ি, তারপর ছিনতাই। বড়সড় চুরিতেও তারা সিদ্ধহস্ত। বাদ যাচ্ছে না অফিস, বাসা-বাড়িও। ছোট ছোট শিশুরা বড়দের তথ্য দেয়। সেই অনুযায়ী তারা টার্গেট ঠিক করে ছিনতাই করে। মোবাইল, মানিব্যাগ, স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি তারা এক সময় এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনকারীদের ফলো করতো। এখন তারা ব্যাংকে বড় লেনদেনকারীদের টার্গেট করে। ছিনতাই হওয়া ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে আমরা সিসি ক্যামরায় অপুর গ্রুপের সদস্যদের উপস্থিতি পেয়েছি। ৮ থেকে ১২ বছরের গাম আসক্ত শিশুরাও এখন তথ্য দিয়ে ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের সহায়তা করছে।</p>
<p><strong>স্টেশনের সেই মায়াবী শিশুটি এখন পুলিশের খাতায় ‘দক্ষ-অভিজাত চোর’</strong><br />
‘শ’ দিয়ে নাম শুরু। দেখতে বেশ আদুরে শিশু। চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে আসা যাত্রীরা তাকে দেখে আদর মাখা হাত বুলিয়ে দিতেন তার মাথায়। এগিয়ে এসে বোঝা নিতে চাইলে শিশুর মাথায় কেউ বোঝা না দিয়ে ৫/১০ টাকা হাতে দিয়ে দিতেন। সেই মায়াবি চেহারার শিশুটি এখন কিশোর। অন্য দুই চার দশটা শিশু-কিশোরের মতো তারও স্কুলের ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে বিদ্যা অর্জনের জন্য ছুটার কথা। কিন্তু নিয়তি তাকে টেনে এনেছে এক অন্ধকার জগতে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো শিশুর শখের বাইসাইকেল চুরি হলেই পুলিশের চোখে ভেসে ওঠে ‘শ’ দিয়ে শুরু হওয়া শিশুটির নাম। বছরে অর্ধশতের বেশি বাইসাইকেল চুরি হয় তার হাতে। মাত্র তিন সেকেন্ডে সে সাইকেলের যে কোনো তালা খুলতে পারে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর বয়স বিবেচনায় জামিন হয়। জামিনে এসে আবারও করে চুরি।</p>
<p>পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়—সাইকেল যে মানেরই হোক তারা বিক্রি করে এক থেকে তিন হাজার টাকায়। সেই টাকা গ্রুপের সবাই মিলে ভাগ কর নেয়। সাইকেল বিক্রির টাকায় ২/১ বেলা ভালো খাবার খেলেও বাকি টাকা নেশা করে উড়ায়! কী ধরণের নেশা করে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক মোমিনুল হাসান জানান—বেশিরভাগ সময় সে এবং তার দলের কিশোররা গাম টানে। মাঝে মধ্যে গাঁজা সেবন করে বলে স্বীকার করেছে। শিশুদের দিয়ে সাইকেল চুরি করানোর একটা চক্র আছে। তারা সব সময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে। তাদের বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা কী জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রের অনেককে আমরা বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। তারা জামিনে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। ভাসমান হওয়ায় তাদেরও গ্রেপ্তার সব সময় সম্ভব হয় না।</p>
<p>বিভিন্ন সময় সাইকেল চুরি করে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে কিশোর ‘শ’। ঘুরেফিরে তার নামই কেন আসে জানতে চাইলে মমিন হাসান বলেন, শিশুটির চেহারায় আভিজাত্য আছে। সাধারণ পোশাকেও শিশুটিকে ধনীর দুলাল ভাবে যে কেউ। সাইকেলের তালা ভাঙ্গার পর সে যখন সাইকেলে চড়ে বসে তখন সবাই ভাবে সেই সাইকেলের মালিক। কারো সন্দেহ হয় না। নগরীর একাধিক সুরক্ষিত অভিজাত এলাকার সিসি ক্যামরায় তার চোরাই সাইকেল চালিয়ে চলে যাওয়ার ফুটেজ আমরা পেয়েছি। সিকিউরিটেদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে—কোনো সাহেবের ছেলে হবে ভেবে আমরা তাকে কখনো কিছু জিজ্ঞেস করিনি।</p>
<p>জামিনে এসে অন্যান্যদের সঙ্গে চট্টগ্রাম ষোলশহর রেল স্টেশনে আড্ডা দিচ্ছিলো সেই কিশোর। হাতে তার গামের পোটলা। কথা বলার এক পর্যায়ে কিশোর ‘শ’ জানায়—‘মনে অনেক দুঃখ ভাইয়া। আমরার মনেও তো চায় বাপ-মা, ভাই-বোন নিয়া থাকতে। কিন্তু বাপ যে আমাগোরে ফেলাইয়্যা গেছে, মায়ে আর কী করবো? অভ্যাস অইয়্যা গেছে। ডান্ডি (ড্যান্ডি), কলকিই এখন আমাগো জীবনের অংশ। রক্তে চুরিদারি মিশ্যা গেছে।’</p>
<p>এই শিশুদের দায়িত্ব নিতে চায় না সমাজসেবা কিংবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কেউ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার উপরিচালক মো. ফরিদুল আলম বলেন—আমরা সুস্থ-স্বাভাবিক শিশুদের দায়িত্ব নিয়ে থাকি। তাদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতা করি। গাম আসক্তদের দায়িত্ব মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে।</p>
<p>মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি—গাম মাদক হিসেবে এখনও শিডিউলভুক্ত নয়। অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মেট্রোর উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুকুল জ্যাতি চাকমা বলেন—‘গাম আমাদের সিডিউলভুক্ত না হওয়ায় আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না।’ গাম তৈরির উপাদান টলুইন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের শিডিউলভুক্ত উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘টলুইন গামে ব্যবহার হয়। টলুইন সরাসরি মাদক হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। এক্ষেত্রে আমরা সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চালাতে পারি যাতে তারা গাম আসক্ত না হয়।’</p>
<p>এভাবে এই চক্র চলছে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। এর শেষ কোথায়? হ্যা, শেষ আছে। দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে, পদক্ষেপ নেয়। সংস্থার প্রধান বদলি হলে সেই পদক্ষেপ আর বাস্তবায়ন হয় না। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করছে, জেলা প্রশাসনও করার আশ্বাস দিলো।</p>
<p><strong>চক্র ভাঙ্গতে পুলিশের পদক্ষেপ, দেখেনি আলোর মুখ</strong><br />
বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি (ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ) সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব পালন করতে এসে বিষয়টিতে নজর দেন। একটি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন—চট্টগ্রাম রেল স্টেশন, নিউ মার্কেট, ষোলশহর স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা অধিকার বঞ্চিত শিশুদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসিত করার। কিন্তু তাঁর বদলির পর সেই চুক্তি পরবর্তী কমিশনার বা পুলিশের পক্ষ থেকে আর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।</p>
<p>সালেহ মোহাম্মদ তানভীর চট্টগ্রাম খবরকে বলেন—কোনো শিশুই অপরাধী হিসেবে জন্মায় না। তাদের অধিকারগুলো আমরা নিশ্চিত করতে পারলে তারা সমাজের জন্য ঝুঁকি নয় সম্পদ হিসেবে কাজে লাগবে। সেই চিন্তা থেকে আমরা একটা পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসি। কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করতে পারলে তারা সমাজকে কিছু দিতে পারতো। আমি আশা করবো সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।</p>
<p><strong>পথ দেখাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন</strong><br />
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন—মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আলোচিত এক শহীদের নামে সংগঠনটি গঠিত। গাম আসক্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। সংগঠনের কর্ণধার তাঁর নিজের নাম, সংগঠনের নাম প্রকাশ না করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন। সংগঠনটি শিশুদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানান বাধা পেয়েছে। সব বাধা উপেক্ষা করে গত ২ বছরে তারা ২২ জন শিশুকে গাম আসক্তি থেকে ফিরেয়ে এনেছেন স্বাভাবিক জীবনে। সেই ২২ জনের সবাই পড়াশোনা করছে, তাদের ৫ জন শিক্ষার্থী কলেজ লেভেলে পড়ছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত উদ্ভাবনী মেলায় তাদের থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী নিজেদের মনের মতো ১২টি প্রোজেক্ট প্রদর্শন করে সবার নজর কেড়েছে।</p>
<p><strong>আশার বাণী শোনালেন জেলা প্রশাসক</strong><br />
চট্টগ্রাম নগরীর শীর্ষ অপরাধীদের বড় একটা অংশের বেড়ে ওঠা অধিকার বঞ্চিত শিশু হিসেবে। তাদের অধিকার নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে কিনা—জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এতদিন এভাবে ভাবতে না পারাটাও দুঃখজনক। আমাদের দৃষ্টিতে যেহেতু এনেছেন আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেবো। কারণ, এই শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে আমার-আপনার সাবার জীবন নিরাপদ হবে। তাদের মেধা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/12/10/%e0%a6%85%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নে, ‘জয়বাংলা’ দিয়ে গোসল কর!</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/11/10/%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/11/10/%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 10 Nov 2023 20:09:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Exclusive]]></category>
		<category><![CDATA[Features]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1442</guid>

					<description><![CDATA[২৫ মার্চের সেই কালরাত। ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও চলে নিরীহ বাঙালীর ওপর পাক হায়েনাদের অতর্কিত হামলা। হালিশহরস্থ ইপিআর তথা ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ক্যাম্পে পশ্চিমা হায়েনারা শুরু করলো বাঙালী সৈনিক নিধন। বাঙালী সৈনিকরাও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ‘যার যা ছিল তা নিয়ে প্রস্তুত ছিল’। শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ, চলে ৩০ মার্চ রাত পর্যন্ত। রাতের &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/11/10/%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a6%b2/"> <span class="screen-reader-text">নে, ‘জয়বাংলা’ দিয়ে গোসল কর!</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>২৫ মার্চের সেই কালরাত। ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও চলে নিরীহ বাঙালীর ওপর পাক হায়েনাদের অতর্কিত হামলা। হালিশহরস্থ ইপিআর তথা ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ক্যাম্পে পশ্চিমা হায়েনারা শুরু করলো বাঙালী সৈনিক নিধন। বাঙালী সৈনিকরাও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ‘যার যা ছিল তা নিয়ে প্রস্তুত ছিল’। শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ, চলে ৩০ মার্চ রাত পর্যন্ত। রাতের শেষভাগে ইপিআর সৈনিকরা ২জন, ৫ জন, ১০ জন এভাবে ভাগ হয়ে ক্যাম্প এলাকা ছেড়ে যুদ্ধের জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েন।</p>
<p>৩১ মার্চ সকালে কিছু বাঙালী জোয়ান সংগঠিত হয়ে আবার প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন। তারা আশ্রয় চান পাশ্ববর্তী নাথপাড়া আর আবদুপাড়ায়। দুইপাড়ার মানুষজন ইপিআর জোয়ানদের দেখে মনে সাহস পায়। তারাও শপথ নেয় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করবে।<br />
কিন্তু জোয়ানদের আশ্রয় দেয়া, তাদের সহায়তা করায় এই দুই পাড়ায় বসবাসকারীদের জীবনে কী সর্বনাশ ডেকে আনবে তা কাক-পক্ষীও টের পায়নি। চোখের পলকেই এক জীবন্ত নরকে পরিণত হয় নাথপাড়া-আবদুপাড়া। নিরবালা দেবীর কোল থেকে সন্তান কেড়ে নিয়ে ছেলের শরীর টুকরো করে মায়ের শরীরে রক্ত ঢেলে পাশবিক উল্লাসে মেতে উঠে বলে- ‘বহুতো জয়বাংলা বলেছিস, নে, জয়বাংলা দিয়ে (ছেলের রক্ত দিয়ে) গোসল কর!’</p>
<p>হরিরঞ্জন নাথের ছেলে দুলালের ঘাড়ে কিরিচ দিয়ে কোপ দিল, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েগেল মাথা! পুত্রের লাশের উপর পিতা আছড়ে পড়লে পুত্রের লাশের ওপরেই জবাই করা হয় পিতাকে! ভাইয়ের জন্য ভাই আর্তনাদ করতেই সেই ভাইকেও হত্যা করা হয় ভাই-ভাতিজার লাশের উপর। এমনি নির্মম ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিল সেদিনের নাথপাড়া, আবদুপাড়াবাসী।</p>
<p><strong>শহীদ হরিরঞ্জনের মেয়ে খুকু রানীর মুখেই শুনি সেদিনে ঘটনা!</strong><br />
আমি তখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। সকালবেলা দরজা ধাক্কানোর শব্দ। কে কে…? উত্তর এলো ‘আমরা ইপিআর সদস্য। আমাদের ক্যাম্পে আক্রমণ হয়েছে। আমাদের আশ্রয় দিন।’ অর্ধশতাধিক মুক্তিকামী ইপিআর সদস্যকে আশ্রয় দিল নাথপাড়াবাসি। ‘‘আশ্রয় নেওয়া ইপিআর সদস্যদের খাওয়া-দাওয়ার সব ব্যবস্থা করা হলো। আমাদের ভাই-বাবারা তাঁদের আশ্বস্ত করলেন আমরা একসঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করব। সকাল ১০টার দিকে প্রচন্ড গোলাগুলি। আমরা পুকুরপাড়ের মন্দিরে আশ্রয় নিলাম। এরই মধ্যে বেলা একটার দিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে একদল লোক এসে দরজায় ধাক্কা দিল। আমরা ভেবেছিলাম তারা স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। কিন্তু তারা জয়বাংলা স্লোগান দিয়েছিল আমাদের প্রতারিত করতে। পরে বুঝলাম এরা শত্রুপক্ষ।</p>
<figure id="attachment_1444" aria-describedby="caption-attachment-1444" style="width: 675px" class="wp-caption aligncenter"><img fetchpriority="high" decoding="async" class="size-full wp-image-1444" src="https://farukmunir.com/wp-content/uploads/2023/12/khuku.jpg" alt="" width="675" height="422" srcset="https://farukmunir.com/wp-content/uploads/2023/12/khuku.jpg 675w, https://farukmunir.com/wp-content/uploads/2023/12/khuku-300x188.jpg 300w" sizes="(max-width: 675px) 100vw, 675px" /><figcaption id="caption-attachment-1444" class="wp-caption-text">৭১’র পাশবিকতার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন খুকু রানী</figcaption></figure>
<p>“বাড়ির ভেতর ঢুকে তারা চালালো হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নি সংযোগসহ নারকীয় তান্ডব। আমার বাবা, ভাইদের লাশ দেখে আমি জ্ঞান হারালাম। যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি আমার চারপাশে লাশের স্তুপ। বামপাশে আগুন জ্বলছে। এক সময় বুঝলাম আগুনে আমার শরীরের একাংশ ঝলসে গেছে। আমি লাফ দিলাম সামনের পুকুরে। পুকুর থেকে উঠে পাশের আবদু পাড়ায় গেলাম। কেউ আমাকে চিনতেছিল না। পরিচয় দেয়ার পর ঘরে নিয়ে চিকিৎসা করালো।”<br />
অব্যক্ত কথাও আছে। সম্ভ্রম হারানোর ক্ষত অর্ধ শতাব্দী বয়ে বেড়াচ্ছেন খুকু রাণী। অনেকবার এসব কাহিনি বলেছেন অনেককে। এক মুহূর্তের জন্যও তিনি মাথা থেকে বাদ দিতে পারেননি সেই দুঃসহ দিনের কথা।</p>
<p><strong>প্রত্যক্ষদর্শী কুঞ্ছবালার কাছ থেকে শোনা সেদিনের চিত্রটা ছিল এরকম-</strong><br />
‘দরজার পাশেই খুকু রাণীর বড় ভাই দুলালকে কিরিচ দিয়ে কোপ দিল বিহারিরা। দেহ থেকে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তারপর তাঁদের মা নিরবালা দেবীকে টেনে এনে এক অবাঙালী বলল- খুবতো জয় বাংলা জয় বাংলা করেছিস এবার ছেলের রক্ত দিয়ে গোসল কর…।’ এ দৃশ্য দেখে মূর্ছা গেল খুকু ও নিরবালা। তারা যাঁকে পেয়েছে তাঁকে কুপিয়েছে। একসময় তাঁদের আরেক ভাই বাদল নাথকে নিয়ে খাটের তলায় ঢুকে পড়েছিল খুকু। শেষরক্ষা হয়নি। বোনের বুক থেকে বাদলকে টেনে এনে হত্যা করল। শুধু তাই নয়, খুকু রাণীর কাকিমার কাছ থেকে কোলের শিশুটি নিয়ে ছুঁড়ে মারল দূরে।</p>
<figure id="attachment_1445" aria-describedby="caption-attachment-1445" style="width: 675px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class="size-full wp-image-1445" src="https://farukmunir.com/wp-content/uploads/2023/12/kunchabala.jpg" alt="" width="675" height="422" srcset="https://farukmunir.com/wp-content/uploads/2023/12/kunchabala.jpg 675w, https://farukmunir.com/wp-content/uploads/2023/12/kunchabala-300x188.jpg 300w" sizes="(max-width: 675px) 100vw, 675px" /><figcaption id="caption-attachment-1445" class="wp-caption-text">নাথপাড়া গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী কুঞ্ছবালা</figcaption></figure>
<p>মহান স্বাধীনতার জন্য স্বামী আর দুই সন্তানকে চোখের সামনে শহীদ হতে দেখা নিরবালা দেবী (খুকুর মা) ২০০৮ সালের মার্চের ২ তারিখ ডানা মেলে আকাশের পানে ছুটে গেলেন। সেদিন ঘাতকেরা তাঁর গর্ভজাত ছেলের রক্ত দিয়ে স্নান করাল তাঁকে, শত আকুতি সত্বেও চোখের সামনে কুচি কুচি করল তাঁর নাড়ী ছেঁড়া সন্তান দুলাল, বাদল আর স্বামী হরিরঞ্জন নাথসহ অনেক স্বজনকে। ৭১’র সেই বীভৎস ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরবালা দেবী চলে গেলেও রেখে গেছেন সেদিনের আরও অনেক প্রত্যক্ষদর্শী।</p>
<p>শুধু নাথপাড়ায় নয়, ঘাতকরা সেদিন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল পাশের আবদু পাড়ায়ও। সেখানে আজগর আলী, ইসহাক, বাবুল হক, সিদ্দিক আহমদসহ অনেকেই শহীদ হয়েছেন খুনিদের হাতে। এই দুটি পাড়ায় সেই ৩১ মার্চ দুপুরে শতাধিক বাঙালী নিহত হলেও অনেকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ইপিআর সদস্যদের পরিচয় জানা যায়নি।<br />
সেদিন প্রাণ দেওয়া অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার কী অপরাধ ছিল? তাঁরাতো চেয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশ। তাঁরাতো স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল (পরে যেটা বিডিআর এবং বর্তমানে যে বাহিনীর বিজিবি নাম করণ হয়েছে) সদস্যদের আশ্রয় দিয়েছিলেন কেবল।</p>
<p>স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেও এই দুই পাড়ার কারোরই মেলেনি শহীদ পরিবারের মর্যাদা। অনেকে অনেক আশার বানী শুনিয়েছেন তাঁদের। উল্লেখ করার মতো কিছুই জুটেনি তাঁদের ভাগ্যে। তাঁরাতো অর্থ-কড়ি চান না। চান শুধু একটু রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, একটু মর্যাদা।<br />
তাঁদের প্রাপ্তি বলতে- শিল্পী ঢালী আল মামুনের ডিজাইনে, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট ও ড. অনুপম সেন, ডা. মাহফুজুর রহমান, সাংবাদিক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শওকত বাঙ্গালীদের সহায়তায় ২০০১ সালে নির্মিত একটি শহীদ বেদি। এ ছাড়া আর কিছুই পাননি তাঁরা।</p>
<p>বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, নাথপাড়ার গণহত্যা অন্য গণহত্যার নির্মমতার বিচারে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা অনেক চেষ্টা করেও নাথপাড়া, আবদুপাড়াবাসীর জন্য কিছু করতে পারিনি। শেষ একটি শহীদ বেধী তৈরি করে দিয়েছি। সেটিও এখন অযত্ন অবহেলায় আছে।<br />
তিনি আরও বলেন, যাদের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমাদের এই যশ-খ্যাতি, অর্জন তাঁদের আত্মার অভিশাপে যদি এ অর্জন কোন দিন মুখ থুবড়ে পড়ে তখন অবাক হওয়ার কিছু থাকবে?</p>
<p><em>চট্টগ্রাম খবর-২২ ডিসেম্বর ২০২২</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/11/10/%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দালালের খপ্পর— প্রবাস জীবন চট্টগ্রামের নারীদের কাছে ‘জাহান্নাম’</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%9c%e0%a7%80/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%9c%e0%a7%80/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 03 Oct 2023 17:29:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Exclusive]]></category>
		<category><![CDATA[Trafficking]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1388</guid>

					<description><![CDATA[চট্টগ্রামের পোশাক শ্রমিকের কোলে বেড়ে উঠছে সৌদি বংশোদ্ভূত সন্তান!রাঙ্গুনিয়ার গোচরা এলাকার ১৯ বছরের সুন্দরী যুবতী লায়লা (ছদ্মনাম)। তার মায়ের সাথে কয়েক মাসের পরিচয়ে সখ্যতা গড়ে ওঠে মধ্য বয়সি আরেক নারীর। সেই নারী তার মাকে প্রস্তাব দেন- সৌদি আরবে একজন বৃদ্ধা মহিলা আছেন অসুস্থ। তার সেবার জন্য একটা মেয়ে চায়। বেতন-ভাতাও ভালো দিবে। গ্রামের সহজ-সরল নারী &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%9c%e0%a7%80/"> <span class="screen-reader-text">দালালের খপ্পর— প্রবাস জীবন চট্টগ্রামের নারীদের কাছে ‘জাহান্নাম’</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>চট্টগ্রামের</strong> <strong>পোশাক</strong> <strong>শ্রমিকের</strong> <strong>কোলে</strong> <strong>বেড়ে</strong> <strong>উঠছে</strong> <strong>সৌদি</strong> <strong>বংশোদ্ভূত</strong> <strong>সন্তান</strong><strong>!</strong><br />রাঙ্গুনিয়ার গোচরা এলাকার ১৯ বছরের সুন্দরী যুবতী লায়লা (ছদ্মনাম)। তার মায়ের সাথে কয়েক মাসের পরিচয়ে সখ্যতা গড়ে ওঠে মধ্য বয়সি আরেক নারীর। সেই নারী তার মাকে প্রস্তাব দেন- সৌদি আরবে একজন বৃদ্ধা মহিলা আছেন অসুস্থ। তার সেবার জন্য একটা মেয়ে চায়। বেতন-ভাতাও ভালো দিবে।</p>



<p>গ্রামের সহজ-সরল নারী বিশ্বাস করে যাবতীয় নিয়ম-কানুন মেনে নিজের মেয়েকে পাঠিয়ে দেন সৌদি আরব। জীবন-মান পরিবর্তনের আশায় লায়লা সবুজ-শ্যামল, পাহাড়-নদী ঘেরা রাঙ্গুনিয়া ছেড়ে পাড়ি জমান মরুর দেশ সৌদি আরবে। এই মরুর বুকে অনেক স্বপ্ন রচিত হলেও লায়লার জীবনটাই পরিণত হয় তার ভাষায়- জাহান্নামে।</p>



<p>লায়লা বলেন- ‘আমাকে দেওয়া হয় ১৬টি ঘর মোছার কাজ। মেঝে মোছার পর দেয়ালও ধুতে হয়। আমাকে খেতে দেওয়া হতো মুরগির সিদ্ধ মাংস আর এক টুকরো পাউরুটি। তাদের খাবার খেতে আমার সমস্যা হচ্ছে বলায় আমাকে রান্না করে খেতে বলল। আমি রান্না করলে তারা এসে আমার খাবার ‘টেস্টি’ বলে খেয়ে নিতো, আমি উপোষ থাকতাম।’</p>



<p>‘যে মালিকের বাসায় আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়েছিল তার ছিল দুই সংসার। দুই শ্বশুর বাড়ির মানুষজন সেই বাড়িতে থাকতো। আমাকে সবার কাপড়-ছোপড়ও পরিষ্কার করতে হতো। ডিউটি ছিল ভোর ৬টা থেকে-রাত ১টা পর্যন্ত। বাড়ির মালিক রাতে ঘুমানোর আগে ঘড়ির কাঁটা দুই ঘন্টা এগিয়ে রাখতেন। ভোর ৪টাকে ভোর ৬টা বলে আমাকে দিয়ে কাজ শুরু করাতেন।’</p>



<p>‘আমি যখন বললাম দেশে চলে আসবো তখন আমাকে বিদ্যুতের তার দিয়ে মেরে একটা ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছিল। দুই দিন কোন খাবার দেয়নি। পরে আমি যখন বললাম- থাকবো, কাজও করবো তখন আমার ঘরের দরজা খুলে দেয়।’</p>



<p>লায়লা বলেন, তাকে কাঠ এবং শক্ত বস্তু দিয়ে নিয়মিত আঘাত করা হতো। শরীর ছাড়াও মাথায় আঘাত করতো। একবার মাথায় আঘাত করলে তিনি জ্ঞানও হারিয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি পালানোর পথ খুঁজছিলেন। কিন্তু বাড়ির প্রধান ফটক কোড দিয়ে লক করা থাকায় তা সম্ভব হচ্ছিল না।</p>



<p>কোন এক রাতে ফটক লক করতে ভুলে গিয়েছিলেন বাড়ির মালিক। ভোরে ওঠে লায়লা পালিয়ে গেলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর দেখলেন একটা গাড়ি তাকে অনুসরণ করছে। তিনি নিশ্চিত হলেন সেটি তার মালিকের গাড়ি নয়। তখন তিনি থামলেন। গাড়িটি ছিল পুলিশের। পুলিশ তাকে আটক করে সেই বাড়িতে আবার পৌঁছে দিলেন।</p>



<p>নির্যাতনে এবার যুক্ত হলো নতুন মাত্রা- ‘চুলের গোছা ধরিয়ারে দেয়ালত মাথা ঠুস মারছে’ (চুলের গোছা ধরে দেয়ালে মাথা ঠুকাতো)।</p>



<p>দ্বিতীয়বার যখন মালিকের বাসায় পুলিশ তাকে ফেরায় সেখানে নির্যাতনের সাথে যুক্ত হয় মালিকের আরেক বন্ধুর যৌন নিপীড়ন। লায়লার জীবনে নেমে আসে আরেক কালো অধ্যায়। লায়লার গর্ভে আসে অনাগত সন্তান। লায়লা টের পান তার সন্তান গর্ভে বেড়ে ওঠছে। গর্ভ যখন প্রকাশ পায় তখন মালিক তাকে তাড়িয়ে দেয়।</p>



<p>লায়লা পৌঁছে যায় সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসে। দূতাবাসের সহযোগিতায় আট মাসের গর্ভবতী লায়লা ফিরেন দেশে। যথা সময়ে লায়লা মা হন। কিন্তু সন্তানের পিতা হয়নি কেউ।</p>



<p>লায়লার মা বলেন- ‘পাড়া-প্রতিবেশীকে বলেছি, সৌদিতে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সংসার না টিকায় মেয়ে দেশে চলে আসছে। সে এখন পোশাক শ্রমিক। মেয়ে (লায়লা) যখন কারখানায় যায় নাতিনকে আমি দেখি। তার চোখ, নাক, চুল সব আরবদের মতো হয়েছে।’</p>



<p>ভাগ্য বদলাতে চেয়েছিলেন লায়লা। কিন্তু ভাগ্য বদলেছে ঠিকই, সমাজে আর তিনি মুখ দেখাতে পারছেন না। পোশাক কারখানা-ঘর-পোশাক কারখানায় সীমাবদ্ধ তার দুনিয়া। নাড়ি ছেঁড়া ধন সন্তানকে পরম আদরে রেখেছেন। এই সন্তানের ভবিষ্যত কিংবা নিজের ভবিষ্যত কোনটা নিয়েই তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না।</p>



<p>পরিবারটি এখন সমাজচ্যূত। আত্মীয়-স্বজনও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা তাদের পাশে আছেন। সাহস যোগাচ্ছেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে মানসিক শক্তি যোগানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।</p>



<p>ভবিষ্যত নিয়ে কী চিন্তা করছেন জানতে চাইলে চোখ মুছে লায়লা বলেন- ‘খোদার আতত ছাড়ি দিই’ (খোদার হাতে ছেড়ে দিয়েছি)।</p>



<p><strong>লেবাননে</strong> <strong>বাংলাদেশী</strong> <strong>নারী</strong> <strong>শ্রমিকের</strong> <strong>ছবি</strong> <strong>দিয়ে</strong> <strong>খোঁজা</strong> <strong>হয়েছে</strong> <strong>খদ্দের</strong><strong>!</strong><br />উত্তর চট্টগ্রামের ভূজপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম রাঙামাটিয়ার গৃহবধু ‘সুলতানা’(ছদ্মনাম)। স্বামীর লিভার সিরোসিস শনাক্ত হলে অন্ধকার নেমে আসে তার দু’চোখে। মুক্তির দূত হিসেবে হাজির হয় পাশের কোন এক গ্রামের এক পাতানো বোন। সেই বোনের আন্তরিকতায় মুগ্ধ সুলতানা! এ যেন হাজার বছরের পরিচয়-সম্পর্ক!</p>



<p>মুখের মধুর ভাষার আড়ালে কী লুকায়িত তা বোঝার সুযোগ হয়নি কারো। সেই বোনের প্রস্তাব ছিল- স্বামীকে বাঁচানোর পাশাপাশি সন্তানদেরও জীবন নিশ্চিত হবে যদি সুলতানা লেবানন যায়। লেবাননে গিয়ে অনেক টাকা কামাতে পারবে। ঘরের কাজ শুনে তিনিও রাজি হলেন।</p>



<p>কিন্তু লেবানন গিয়ে তিনি হয়ে গেলেন ‘ভোগের পণ্য’, তার ছবি তুলে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হচ্ছিলো। খোঁজা হচ্ছিলো খদ্দের। এভাবে খদ্দের আসে, যায়। শুরু হয় তার জীবনের অন্ধকার আরেক অধ্যায়।</p>



<p>এক পর্যায়ে তিনি সেখান থেকে কৌশলে পালাতে সক্ষম হন। আশ্রয় মেলে আরেক লেবাননির বাসায়। সেই বাসায় সাত মাস কাজ করেছেন আত্মগোপনে থেকে। এই সাত মাসে তার হাতে কিছু টাকা জমে।</p>



<p>এদিকে যার জন্য সুলতানা আত্মীয়-স্বজন সব ছেড়ে মরুর দেশে পাড়ি জমালেন সেই স্বামী দুনিয়ার থেকে পাড়ি জমালেন পরপারে। সুলতানা ফিরে এলেন, স্বামী হারালেও যক্ষের ধন দুই ছেলেকে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিবেন।</p>



<p>দেশে এসে দেখেন তার আর কিছুই নেই। নেই বলতে তার সব স্বজন পরতো হলোই নাড়ী ছেঁড়া ধন ১৪ আর ১০ বছরের দুটি ছেলেও মা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। স্বামী মারা যাওয়ায় স্বামীর বাড়িতে তার আর স্থান হয়নি।</p>



<p>যা কিছু টাকা এনেছেন তা দিয়ে সুলতানা জনবিচ্ছিন্ন দূর্গম টিলার আড়ালে কুঁড়ে ঘর বেঁধেছেন। খাওয়া-দাওয়া কোন কিছুরই ঠিক ছিল না। মানুষ দেখলেই তিনি ভীত হয়ে পড়েন। প্রবাস জীবনের সেই ভীতি তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।</p>



<p>তার এমন অবস্থা জেনে একটি উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা তাকে মানসিক শক্তি যোগান। একটানা কাউন্সেলিং করে সুলতানাকে মূল ধারায় ফেরানোর চেষ্টা করেন।</p>



<p>সুলতানা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার খবর শুনে তিনি লেবানন থেকে দেশে আসার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু যেহেতু তিনি লেবাননির বাসায় অবৈধভাবে আত্মগোপনে থেকে কাজ করছিলেন তার দেশে ফেরাটা স্বাভাবিক ছিল না। ওই লেবাবনি তাকে পরামর্শ দেন পুলিশে ধরা দেওয়ার জন্য। সেই পরামর্শে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করেন। লেবাননে তিনি একমাস কারাভোগের পর তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।</p>



<p>উন্নয়ন কর্মীদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার প্রকল্পের একটি ঘর পেয়েছেন সুলতানা। বর্তমানে ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে বসবাস করছে তিনি।</p>



<p><strong>প্রবাসী</strong> <strong>নারীর</strong> <strong>জীবন</strong> <strong>বিপন্ন</strong> <strong>করে</strong> <strong>আরেক</strong> <strong>প্রবাসী</strong> <strong>পুরুষ</strong><strong>!</strong><br />চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মেয়ে কুলসুমার (ছদ্মনাম) স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে তিনি পাড়ি জমান দুবাই। সেখানে গিয়ে তার মালিকের পার্লারে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ নেন। কাজের ফাঁকে তিনি তার মালিককে সহযোগিতা করেন। মালিকও তার সেই সহযোগিতায় খুশি হয়ে প্রথমে টুকটাক কাজ করান। এভাবে মালিকের সহযোগিতায় তিনি পার্লারের কিছু কাজ রপ্ত করেন।</p>



<p>কুলসুমার দক্ষতায় মালিক মুগ্ধ হয়ে তাকে পার্লারে কাজের সুযোগ দেন। আত্মবিশ্বাসী কুলসুমা প্রথমবার ভিসার মেয়াদ শেষ হলে দেশে ফিরে আসেন। দ্বিতীয়বার বিদেশ যান সেই মালিকের একজন দক্ষ বিউটিশিয়ান হিসেবে। এই মেয়াদে কুলসুমা বেশ আয়-রোজগারও করেন।</p>



<p>নিঃসঙ্গ কুলসুমার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে পরিচয় হয় আরেক প্রবাসীর। তার বাড়ি কুমিল্লা। কুমিল্লার সেই প্রবাসীর সাথে তার সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে।</p>



<p>একটু সুখ, স্বস্তির স্বপ্নে বিভোর কুলসুমা শুরু করেন দ্বিতীয় স্বামীর সংসার। সেই স্বামীই তার জীবনটা বিষিয়ে তুলেন।</p>



<p>বিদেশ থেকে দেশে ফিরে কুলসুমা উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম জংশন ঝংকারে গড়ে তুলেন একটি অত্যাধুনিক বিউটি পার্লার। সেই পার্লারের তার আয়-রোজগার ছিল বেশ ভালো।</p>



<p>তার আগের সংসারের আছে একটি কন্যা সন্তান। নিজের সুখের পাশাপাশি সেই সন্তানের ভবিষ্যত গড়তে যুদ্ধে নামেন কুলসুমা। তার ভাবনায় ছিল স্বামীও তার পাশে থাকবেন। কিন্তু এই স্বামী যে মাদকাসক্ত সেটি প্রেমে হাবুডুবু খাওয়ার সময় কুলসুমা টেরই পাননি।</p>



<p>দ্বিতীয় স্বামীর আসল চেহারা প্রকাশ হয় বিয়ের পর। ততদিনে সময় অনেক গড়িয়েছে। মাদকাসক্ত স্বামীর অশোভন আচরণের শিকার হয় আগের সংসারের মেয়েটিও। কুলসুমার কিছু টাকা পয়সা জমেছে। স্বামী শারীরিক নির্যাতন করে নিয়মিত তার থেকে টাকা পয়সা নিয়ে নেয়।</p>



<p>কুলসুমার দ্বিতীয় স্বামী মুলত তার সম্পদের লোভেই তাকে বিয়ে করেছে। সংগ্রামী এই নারীর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালো স্বামী। তার শুরু হয় আরেকটি সংগ্রাম। এই সংগ্রামে তিনি পাশে পান স্থানীয় প্রশাসনকে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কুলসুমার আবারও ডিভোর্স হয়।</p>



<p>আগের সংসারের মেয়ে, দ্বিতীয় সংসারের ছেলে নিয়ে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন জীবনের চাকা। প্রথম স্বামী তার পথে থাকলেও দ্বিতীয় স্বামী ছেলেকে কেড়ে নিতে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকায় কুলসুম তার নাড়ি ছেঁড়া দুটি সন্তান নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন সংসার।</p>



<p><strong>প্রবাসে</strong> <strong>মনসুরা</strong> <strong>সফল</strong> <strong>হলেও</strong> <strong>খালি</strong> <strong>হাতে</strong> <strong>ফিরেছেন</strong> <strong>কোহিনূর</strong><strong>!</strong><br />চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার ঘাটফরহাদবেগের স্থায়ী বাসিন্দা, চার সন্তানের জননী মনসুরা বেগম। তিনি গিয়েছিলেন ওমান। সেখানে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে যে বাসায় গিয়েছেন তারা তার সাথে মানবিক আচরণ করেছেন বলে জানান মনসুরা বেগম।</p>



<p>গৃহের কাজ করে যে টাকা আয় করেছেন তাতে তিনি দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে পড়াশোনা করছে, আরেক ছেলে রিক্সা গ্যারেজ দিয়ে স্বাবলম্বি হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে তার নিজের দুটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা রয়েছে।</p>



<p>তবে এখানেও আছে তার পরিবারের সমর্থন। মনসুরা বেগম বিদেশ যাওয়ার আগে নিজের মায়ের নামে ব্যাংক একাউন্ট করে গেছেন। মা সেই টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করেছেন।</p>



<p>মনসুরা বলেন- ‘বিদেশ গরি দুগা মাইয়্যা বিয়া দিইয়্যি, পোয়ারেও মানুষ গইজ্যি’ (প্রবাসের আয়ে দুইটি মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, ছেলেদেরও মানুষ করেছি।</p>



<p>সফলতার রহস্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আরবি বুঝতাম। আমার জন্য আমার সেই কফিলের দরজা এখনো খোলা। আমি যেতে চাইলে এখনো তারা ভিসা দিবেন। কিন্তু ছেলে-মেয়ে সব মানুষ করেছি। আত্মীয় স্বজন ছেড়ে আর যাবো না।</p>



<p><strong>বিপরীত</strong> <strong>চিত্র</strong> <strong>কোহিনূরের</strong> <strong>জীবনে</strong><br />সৌদি আরবের দাম্মামে গেছেন হালিশহরের কোহিনূর (ছদ্মনাম)। মাসে ১৮ হাজার টাকা বেতনে তিনি বিদেশ যান। মালিকের বাসায় নিয়মিত তার ওপর নির্যাতন চলতো।</p>



<p>দেশে ফেরার আগে তার গায়ে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে তার সাথে পরিচয় হয় এক বাঙ্গালী যুবকের। সেই যুবক ওই হাসপাতালের সুইপার।</p>



<p>চিকিৎসা শেষে নির্দিষ্ট দিনে কোহিনূরের মালিক হাসপাতালে আসলে সেই সুইপার কর্তব্যরত নার্সকে দিয়ে মালিককে বুঝায়- কোহিনূর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেতে আরও দুই দিন সময় লাগবে।</p>



<p>এই দুই দিনের প্রথম দিন বাঙ্গালী সুইপার কোহিনূরকে পালিয়ে দূতাবাসে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রবাস জীবনের এক বছরের মাথায় কোহিনূর দেশে ফিরে আসেন।</p>



<p>তবে এই এক বছরে তিনি নির্যাতন সহ্য করলেও তার বেতন ঠিকঠাক দিয়েছিল মালিক। যে দালালের মাধ্যমে তিনি বিদেশ গিয়েছেন সেই দালাল তার আয় মেরে দিয়েছে।</p>



<p>কোহিনূর জানান- তাকে ওই দালাল সৌদি মালিককে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়েছিল। মাসে একবার তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার সুযোগ দিতো। ফোন নাম্বার ছিল সেই দালালের! তিনি আরবি ভাষা না বুঝায় বিষয়টি তাদেরও বুঝাতে পারেননি। তার বেতন সেই দালাল ভোগ করেছে।</p>



<p>তবে এখানেই শেষ হয়নি কোহিনূরের কষ্ট। দেশে এসে জানতে পারেন তার স্বামী আরেক বিয়ে করে দিব্যি সংসার করছেন। কোহিনূরের চোখে মুখে রাজ্যের হতাশা। তার পাশে আছেন একাধিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা।</p>



<p>তাকে এখনো নিয়মিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগে চিকিৎসা নিতে হয়।</p>



<p>চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী কিংবা হালিশহর, উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি-ভূজপুর কিংবা রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীর পাড়, সব খানেই সক্রিয় নারী দালাল। তাদের টার্গেট সুন্দরী, অভাবী সংসারের নারী। যারা ভাগ্য বদলাতে যে কোন ঝুঁকি নিতে পারেন। কোহিনূর কিংবা লায়লা, মনসুরা কিংবা সুলতানা সবাই বৈধ উপায়ে, পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছেন। এক মনসুরা ছাড়া সবাই ঠকেছেন।</p>



<p>তবে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাবকারীকে কেউ আর দ্বিতীয়বার খুঁজে পাননি। এতে একটা বিষয় স্পষ্ট যে সবাই দালালের খপ্পরে পড়েছিলেন। আর বিদেশগামী এসব নারীরা পড়াশোনা না থাকায় কোন এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন, কী কাজে যাচ্ছেন তা কারো কাছে নিশ্চিত ছিল না। সেই পরিচিত মুখ যা বলেছেন তাই তারা শুনে ঠকেছেন।</p>



<p>জানতে চাইলে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের উপপরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, বিদেশ গমনের সরকারি নিয়ম মেনে না গেলে যে কেউ বিপদে পড়তে পারেন। যাদের করুন কাহিনী বলেছেন তারা সবাই দালালের খপ্পরে পড়েছেন। তাই আমরা দালাল না ধরে সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদেশ যেতে প্রচারণা চালাচ্ছি। সবাইকে আহ্বান করবো- বৈধ পথে বিদেশ যান। নিজের জীবন ও আয় নিরাপদ করুন।</p>



<p>প্রবাস ফেরত নারীদের করুন চিত্র জেনে দালালদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি বিশেষ অগ্রাধিকার দিবেন বলে জানান র‌্যাব-০৭এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমএ ইউসুফ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক।<em>বি:দ্র: প্রবাসী নারীদের নিয়ে দৈনিক চট্টগ্রাম খবরে প্রকাশিত চারটি প্রতিবেদনের পরিমার্জিত রূপ- দালালের খপ্পর— প্রবাস জীবন চট্টগ্রামের নারীদের কাছে ‘জাহান্নাম’।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%9c%e0%a7%80/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>‘টিচার থেকে চিটার’ ইয়াসমিনা, রূপের যাদু—কথার মায়ায় মানুষকে বসিয়েছেন পথে</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 03 Oct 2023 17:26:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Human Rights and Crime]]></category>
		<category><![CDATA[Top News]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1385</guid>

					<description><![CDATA[ভুক্তভোগীদের বরাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা চট্টগ্রাম খবরকে বলেন—‘ইয়াসমিনা হকের কথায় একটা সম্মোহনী ক্ষমতা আছে। যাদেরকে তিনি টার্গেট করেছেন তাদের টাকা পয়সা হাতিয়ে পথে বসিয়েছেন। অনেকেই তার রূপের যাদুতেও আটকা পড়ছেন।’ঠিক এভাবেই সর্বজন শ্রদ্ধেয় পেশা ‘টিচার থেকে চিটার’ হওয়া ইয়াসমিনা হকের বিষয়ে বলছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। নয়টি চেক প্রতারণা মামলার পলাতক আসামি ইয়াসমিনা হককে রাজধানী ঢাকার &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b8/"> <span class="screen-reader-text">‘টিচার থেকে চিটার’ ইয়াসমিনা, রূপের যাদু—কথার মায়ায় মানুষকে বসিয়েছেন পথে</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p>ভুক্তভোগীদের বরাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা চট্টগ্রাম খবরকে বলেন—‘ইয়াসমিনা হকের কথায় একটা সম্মোহনী ক্ষমতা আছে। যাদেরকে তিনি টার্গেট করেছেন তাদের টাকা পয়সা হাতিয়ে পথে বসিয়েছেন। অনেকেই তার রূপের যাদুতেও আটকা পড়ছেন।’<br />ঠিক এভাবেই সর্বজন শ্রদ্ধেয় পেশা ‘টিচার থেকে চিটার’ হওয়া ইয়াসমিনা হকের বিষয়ে বলছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।</p>



<p>নয়টি চেক প্রতারণা মামলার পলাতক আসামি ইয়াসমিনা হককে রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বায়েজিদ থানা পুলিশ। তাকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।</p>



<p>প্রতারক ইয়াসমিনা হক নগরীর একটি স্বনামধন্য স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। স্কুলের ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনায় দেশের একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। সেই বাহিনীতে নিজের আত্মীয়-স্বজন আছে বলে মিথ্যা প্রচার করতেন। তাছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ আছে বলে ইয়াসমিনা হক প্রতারণার জাল ফেলতেন। সেই জালে আটকা পড়েছেন অনেক অভিভাবক, যারা চান তার সন্তান একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক।</p>



<p>এরকম প্রায় দেড় ডজন অভিযোগ জমেছিল স্কুল পরিচালনা পর্ষদের কাছে। বছর খানেক আগে গঠিত তদন্ত কমিটি সেসব অভিযোগের সত্যতা পেলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।</p>



<p>ইয়াসমিনা হকের গ্রেপ্তারের খবরে তার সাবেক সহকর্মীরা আফসোস করে বলেন, কত সুন্দর একটা চাকরি, নিশ্চিত জীবন। রাতারাতি বড় লোক হওয়ার লোভ তাকে শেষ করেছে।</p>



<p>চাকরি হারিয়েও দমেননি প্রতারক সুন্দরী ইয়াসমিনা হক। বেকারদের টার্গেট করে নেমে পড়েন মাঠে। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বিভিন্নজন থেকে টাকা হাতিয়ে দিতেন চেক। আজ-কাল এভাবে চাকরি না পেয়ে প্রতারিত ব্যক্তিরা আদালতের দারস্থ হন। আদালত ৯টি চেক প্রতারণা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।</p>



<p>বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফেরদৌস জাহান বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অংকের অর্থ গ্রহণ করেন ইয়াসমিন। তারা প্রতারিত হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ৯টি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে তাকে আমরা ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি।</p>



<p>সংশ্লিষ্টরা জানান, যাদের থেকে টাকা নিয়ে ইয়াসমিনা হক চেক দিয়েছেন তারা আদালতের ধারস্থ হতে পেরেছেন। স্কুল ভর্তির কথা বলে যাদের সাথে প্রতারণা করেছেন তারা তাদের টাকা ফেরত চাওয়ার সুযোগ পাননি, তার চাকুরিচ্যুতিটাই শান্তনা। যারা রূপে মজেছেন তারাও চক্ষু লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। তাদের দাবী ইয়াসমিনা হকের স্বামীও তার প্রতারণার অংশীদার।</p>



<p>ইয়াসমিনা হক চাকরির সুবাদে বায়েজিদ থানার লিংক রোডে বসবাস করলেও তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাইরে।</p>



<p><em>প্রতিবেদনটি</em> <em>চট্টগ্রাম</em> <em>খবরে</em> <em>প্রকাশিত</em> <em>হয়েছে</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শঙ্খপাড়ের বার্মা কলোনিতে ১০ সহস্রাধিক রোহিঙ্গার আবাস</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%96%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%96%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 03 Oct 2023 17:25:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Top News]]></category>
		<category><![CDATA[Trafficking]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1383</guid>

					<description><![CDATA[চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের দোহাজারী ব্রিজের দক্ষিণ পাশ থেকে নদীর পাড় ঘেঁষে পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল বস্তি। যাকে বার্মা কলোনি বা রোহিঙ্গা বস্তি বলে সবাই চিনে। এই বস্তিতে প্রায় ৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। এক সময় এই সংখ্যা দ্বিগুণ ছিল। তাদের একটা অংশ কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ফেরত গেলেও অনেকেই স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%96%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a4/"> <span class="screen-reader-text">শঙ্খপাড়ের বার্মা কলোনিতে ১০ সহস্রাধিক রোহিঙ্গার আবাস</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p>চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের দোহাজারী ব্রিজের দক্ষিণ পাশ থেকে নদীর পাড় ঘেঁষে পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল বস্তি। যাকে বার্মা কলোনি বা রোহিঙ্গা বস্তি বলে সবাই চিনে। এই বস্তিতে প্রায় ৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। এক সময় এই সংখ্যা দ্বিগুণ ছিল। তাদের একটা অংশ কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ফেরত গেলেও অনেকেই স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।</p>



<p>কলোনিতে আছে রোহিঙ্গাদের বেশ কিছু দোকান। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও দোকান পরিচালনা করেন। অলস বিকেলে দোকানগুলো ভরপুর থাকে রোহিঙ্গা পুরুষদের আড্ডায়।</p>



<p>ষাটোর্ধ রোহিঙ্গা নাগরিক মো. ইউনুছ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানালেন, ২৫ থেকে ২৬ বছর আগে তিনি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। কোরআনে হাফেজ ইউনুছের দুই ছেলেও কোরআনে হাফেজ। দুজনই ঢাকায় চাকরি করেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আরেক রোহিঙ্গা যুবকের সাথে। মেয়ের স্বামীর পরিবার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকেন।</p>



<p>রোহিঙ্গা নারী শামসুন নাহার জানালেন, বয়সের ভারে তার স্বামী এখন কিছু করতে পারেন না। দুই ছেলে দিনমজুরের কাজ করে। ‘এ দেশেত আসছি সাত-আস্ট বছর হবে’—জানালেন তিনি। আগ থেকে যারা এখানে ছিল তাদের মাধ্যমেই কক্সবাজার পাড়ি দিয়ে বার্মা কলোনিতে স্থান হয় তাদের। বার্মা কলোনিতে আসার আগে কিছু দিন হ্নীলায় তারা অবস্থান করেছিলেন বলেও জানান তিনি।</p>



<p>২০ থেকে ২২ বছরের যুবক সেলিম বলেন, ‘আমার জন্ম এখানে। ক্ষেতে কামলার কাজ করি, সুইপারের কাজ করি। পেলাস্টিক (প্লাস্টিক), ভাঙ্গা-চোরা মালামাল নিয়ে আসি, বেচি।’</p>



<p>কলোনির ভিতরে সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুরা দলবদ্ধভাবে খেলছে। তাদের একটি দলের নেতা করিম। করিমের পিতাও সুইপার। করিম জানায় ‘মুক্তি ইসকুলত পরি’। তার দেখানো পথে এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়, ‘পশ্চিম কাটগড় মুক্তি স্কুল’ নামে একটি স্কুল আছে। যা বাস্তবায়ন করেছে ‘মুক্তি কক্সবাজার’ এনজিও।</p>



<p>পেশায় পিকআপ চালক স্থানীয় বাসিন্দা আহমাদুর রহমান বলেন, ‘শঙ্খপাড়ের দুই বার্মা কলোনিতে দশ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আবাস গড়েছে। এতে আমাদের নানান অসুবিধা হচ্ছে। প্রথমত আমাদের কর্মসংস্থানে সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় দিনমজুররা অনেকটা কর্মহীন। দ্বিতীয়ত কলোনিতে ইয়াবা বেচাবিক্রির পাশাপাশি অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলে। এতে এলাকার যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। তাই তাদের ক্যাম্পে ফেরত না নিলে আমরা বড় সংকটে পড়বো।’</p>



<p>একাধিক ব্যক্তির কথায় উঠে আসে কলোনিতে অসামাজিক কার্যকলাপের সব খবর থাকে সবজিব্যাপারি জাফর সওদাগরের কাছে। জাফরের দোকানে গিয়ে তার সাথে আলাপ করলে প্রথমে কিছুই জানে না বলে জানান। পরে স্বীকার করলেন কিছু কিছু ঘটে। এতটুকু বলে তিনি টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে প্রায় একঘন্টায়ও দোকানে ফিরে আসেননি। তার রহস্যজনক চলে যাওয়াটা পরিস্কার হয়েছে সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই। অপরিচিত যুবকদের আনাগোনা বাড়ার পাশাপাশি কলোনির ঘরগুলোর বাইরে সাজগোজ করা তরুণীদেরও আনাগোনা শুরু হয়।</p>



<p>কলোনিতে ঘর তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন হাসান আলী। তিনি কেরানিহাট ফাজিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। হাসান আলী জানান, তার ২০টি ঘরে রোহিঙ্গারা ভাড়া থাকতো। চলতি বছরের বন্যায় ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এখন ছয়টি পরিবার আছে। বাকিরা অন্যত্র চলে গেছে।</p>



<p>হাসান আলী আরো জানান, ১৯৯২ সালের পর থেকে শঙ্খ নদীর দুই পাড়ে রোহিঙ্গারা আবাস গড়ছে। শঙ্খের উত্তর পাড়ের অংশ চন্দনাইশ, দক্ষিণ পাড়ের অংশ সাতকানিয়া। দুই পাড়ের দুই কলোনিতে ৫ শতাধিক পরিবারের বসবাস। সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা এলাকাবাসী সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।</p>



<p>এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের যাতে ভোটার তালিকাভুক্ত করা না হয় সেজন্য আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করেছি। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং করেছি। বেশ কিছু রোহিঙ্গা চিহ্নিত হওয়ার পর আমরা তাদের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরতও পাঠিয়েছি। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া বা জেলার অন্যান্য জায়গায় যদি রোহিঙ্গা থাকে তদন্তসাপেক্ষে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।</p>



<p><em>প্রতিবেদনটি</em> <em>চট্টগ্রাম</em> <em>প্রতিদিনে</em> <em>প্রকাশিত</em> <em>হয়েছে</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%96%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্পট কর্ণফুলী—ভুয়া পরিচয়ে রোহিঙ্গার স্থায়ী নিবাস যেভাবে চট্টগ্রাম!</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 03 Oct 2023 17:23:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Top News]]></category>
		<category><![CDATA[Trafficking]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1381</guid>

					<description><![CDATA[চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জামালপাড়া। পাড়ায় প্রবেশ করতেই প্রথম বাড়িটি তিনতলা ভবন। মালিক হারুন সরদার। ওই ভবনে প্রায় সাত বছর ধরে বসবাস করছেন মিয়ানমার থেকে আসা রহমত উল্যাহর পরিবার। রহমত উল্যাহ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে পাড়ি জমিয়েছেন মালয়েশিয়া। তার চার সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় পরিচয়ে বসবাস করছেন তার স্ত্রী সাজেদা। বড় মেয়ে কওসার ও মেজ মেয়ে আজিদা &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a/"> <span class="screen-reader-text">স্পট কর্ণফুলী—ভুয়া পরিচয়ে রোহিঙ্গার স্থায়ী নিবাস যেভাবে চট্টগ্রাম!</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p>চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জামালপাড়া। পাড়ায় প্রবেশ করতেই প্রথম বাড়িটি তিনতলা ভবন। মালিক হারুন সরদার। ওই ভবনে প্রায় সাত বছর ধরে বসবাস করছেন মিয়ানমার থেকে আসা রহমত উল্যাহর পরিবার। রহমত উল্যাহ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে পাড়ি জমিয়েছেন মালয়েশিয়া। তার চার সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় পরিচয়ে বসবাস করছেন তার স্ত্রী সাজেদা। বড় মেয়ে কওসার ও মেজ মেয়ে আজিদা বিবি পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে, সেজ মেয়ে ইসমত আরা সপ্তম শ্রেণিতে আর সবার ছোট সুমাইয়া পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। সবার আছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন সনদও।</p>



<p>এভাবে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার থেকে এসে রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছে। অনেকের কাছেই আছে জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্মার্টকার্ড। জায়গা কিনে বিল্ডিং করেও বসবাস করছে অনেক রোহিঙ্গা। অর্থের বিনিময়ে এদের সহায়তা দিচ্ছে রাজনৈতিক নেতা, সরকারি অনেক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।<br />চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।</p>



<p>আরমাস খাতুন তার মেয়ে রমজান বিবিকে নিয়ে বসবাস করছেন কর্ণফুলী উপজেলার জামালপাড়ার আরেকটি পাকা ঘরে। দুইবার গিয়েও তার ঘরের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন তার দুই ছেলে ফয়েজ ও শফিউল মালয়েশিয়া গিয়েছেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে। তার আরেক ছেলে সিরাজ প্রায় ১০ বছর বাবুর্চির কাজ করছেন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ক্যান্টিনে। ক্যান্টিনে গিয়ে বাবুর্চি সিরাজকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘ভাইয়ারা মাঝে মধ্যে টাকা পয়সা পাঠান। এক বোনের বিয়ে দিয়েছি বাঁশখালীতে।’</p>



<p>ষাটোর্ধ মো. ইউনুছ। তার ৩ ছেলের বড়জন ওসমান পিকআপ চালক। অপর দুই জন কবুতর-ইঁদুরের খাঁচা তৈরি করেন। ইউনুছের পেশাও ছিল একই। তারা জায়গা কিনে বিল্ডিংও তৈরি করেছেন জামালপাড়ায়। ইউনুছের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই জায়গা আমার বাপের আমল থেকে আমাদের। নিজেদের জায়গায় ঘর তৈরি করেছি।’<br />তিনি জানালেন, ১৯৬৩ সালে তারা মিয়ানমার থেকে এসে এখানে বসবাস করছেন।</p>



<p>হারুন সরদারের বড় ভাই রহিম উদ্দিনের কাঁচা কলোনিতে থাকেন জাফর আহমেদ। জাফর ফিশারিঘাট থেকে মাছ কিনে ভ্যানে করে গ্রামে বিক্রি করেন। তার বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন আরেক রোহিঙ্গা যুবকের সাথে। মেয়ে এবং মেয়ের জামাই সৌদি আরবে থাকেন। জাফরের বেয়াইরা থাকেন কক্সবাজারের উখিয়ায়। মেয়ে আর মেয়ের স্বামীর সাথে যোগাযোগ আছে জাফরের পরিবারের। টাকা পয়সাও পাঠান সৌদি আরব থেকে। জাফরের ছেলেরা এলাকায় কামলার কাজ করেন। মেয়ে তসলিমা পড়ে স্থানীয় এসএ চৌধুরী স্কুলে।</p>



<p>পাশের ঘরে থাকেন আইয়ুব। ষাটোর্ধ লোকটি ব্যাটারিচালিত রিক্সা চালান। তার দুই সংসার—প্রথম সংসারে চার মেয়ে এক ছেলে। ছেলে লোকাল বাসের হেলপার। এক মেয়ে স্বামীসহ সৌদি আরবে থাকেন। রাশেদা নামে আরেক রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করে হারুনের ভাই রহিমের কাঁচা কলোনিতে থাকছেন। রাশেদার সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে। যৌবনে আইয়ুব তার পরিশ্রম দিয়ে এলাকার মানুষের সহানুভূতি পেয়েছেন। একাই একাধিক শ্রমিকের সমান কাজ করে দিতেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো আইয়ুবের নামে ইস্যু হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রও।</p>



<p>এলাকাবাসী জানিয়েছেন আইয়ুবসহ কয়েকজন রোহিঙ্গার বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র তাদের কাছে থাকে না। এটি জমা রেখেছেন কর্ণফুলী আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এসএ সালেহর কাছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে এসএ সালেহ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘জামালপাড়ায় রোহিঙ্গারা এসেছে প্রায় ৩০ বছর আগে। তারা এলাকার স্থানীয় মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছে। অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছেন। আমি বারবার প্রতিবাদ করেছি। আমার ব্যাপারে যে অভিযোগ তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’</p>



<p>স্থানীয় শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক বানানো হয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর কাউকে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। আমার পরিষদের সকল সদস্য এবং কর্মকর্তারাও সতর্ক আছে। আগে যারা এসে এলাকায় স্থায়ী বসতি গড়েছেন তাদের ব্যাপারে সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন তা বাস্তবায়নে আমরা তৈরি আছি।’</p>



<p>এজে চৌধুরী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘এই এলাকায় বাসা ভাড়া দেওয়ার সময় সরকারি নিয়মে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখা হয় না। যে যার মতো ঘর ভাড়া দেয়। এলাকায় অনেকে আত্মীয়-স্বজন করে ওদের সেটেল্ড করেছেন। তাদের সংখ্যা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।’</p>



<p>এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্পের বাইরে থাকতে না পারে সেজন্য আমরা সতর্ক আছি। ইতোমধ্যে যাদের পেয়েছি আমরা ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছি।’ তবে দীর্ঘদিন বসবাসের কারণে স্থানীয়দের সাথে মিশে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কোন তথ্য নেই বলে জানান তিনি। তবে তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানালেন তিনি।</p>



<p>কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা আবদুস শুক্কুর জানান, ‘উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সকল নিয়মকানুন মেনে ৬ হাজার ২০ জন স্মার্ট কার্ডের আবেদন করেছিলেন। ছবি তোলার সময় আমি সশরীরে উপস্থিত থেকে ৭২ জন রোহিঙ্গা চিহ্নিত করেছি। তবে যারা আগে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন তাদের ব্যাপারে স্থানীয়দের কেউ নির্বাচন কমিশন কিংবা আদালতে অভিযোগ করলে তখন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।’</p>



<p>উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সর্বপ্রথম রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটে বাংলাদেশে। এরপর অনিয়মিতভাবে নানা সময়ে রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা ১৯৯২ সাল এবং ২০০৩ সালে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মুখে আরাকান থেকে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তবে রোহিঙ্গাদের বিশাল একটা অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।</p>



<p>প্রতিবেদনটি ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চমেক শিক্ষার্থী আবিদকে পিটিয়ে হত্যার আসামি সব ছাত্রলীগ নেতাই খালাস</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%9a%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%9a%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 03 Oct 2023 17:22:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Human Rights and Crime]]></category>
		<category><![CDATA[Top News]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1379</guid>

					<description><![CDATA[ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রাবাসে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদই প্রথম নিহত নন। তারও আট বছর আগে প্রায় একই কায়দায় এই দলের নেতাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান। ওই ঘটনায় আবিদের পরিবার মামলা দায়ের করে। অভিযোগ উঠছে, মামলার বাদিকে আদালতের কাছেও ঘেঁষতে &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%9a%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa/"> <span class="screen-reader-text">চমেক শিক্ষার্থী আবিদকে পিটিয়ে হত্যার আসামি সব ছাত্রলীগ নেতাই খালাস</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p>ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রাবাসে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদই প্রথম নিহত নন। তারও আট বছর আগে প্রায় একই কায়দায় এই দলের নেতাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান। ওই ঘটনায় আবিদের পরিবার মামলা দায়ের করে। অভিযোগ উঠছে, মামলার বাদিকে আদালতের কাছেও ঘেঁষতে দেয়নি আসামিপক্ষ। বাদির অনুপস্থিতিতে আদালতে হত্যার উপযুক্ত কোন নথি উপস্থাপিত না হওয়ায় মামলা থেকে খুনে অভিযুক্তরা খালাস পান।</p>



<p>নিহত আবিদ চমেকে বিডিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আবিদ ছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর বড়ইতলী গ্রামের মৃত নুরুল কবির চৌধুরীর কনিষ্ঠ ছেলে।</p>



<p>আবিদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার মামা নেয়ামত উল্লাহ বাদি হয়ে ছাত্রলীগের ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ১২ জনের নামে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস মামলার বিচার শেষে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে লেখা হয়, ‘মফিজুর রহমান গংদের অত্র মামলার দায় হইতে খালাস প্রদান করা হইল।’</p>



<p>রায়ের বিষয়টি শুনে আবিদের ভাই জিল্লুর রহমান হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘সব কিছু থেকে আমাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। ২০১২ সালে পুলিশ ১০ জনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার পর চার্জশিটের বিরুদ্ধে আমরা নারাজি দিতে চেয়েছিলাম। আসামিপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা করতে দেয়নি। মামলার বাদি আমার মামাকে আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতেও তারা দেয়নি। মামলাটি ছিল চট্টগ্রাম প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলাটির কোর্ট পরিবর্তন করে সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে রায়ের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে।’</p>



<p>তবে বাদিপক্ষের অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এডভোকেট অশোক কুমার দাস বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ যথেষ্ট চেষ্টা করেছে আসামিদের দোষী প্রমাণ করতে। মামলার সাক্ষীরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু জেরা-পাল্টা জেরায় শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণ না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছে। বাদিকে মামলার তারিখে আদালতে হাজির রাখতে আমি নিজে যোগোযোগ করেছি। কিন্তু উনি উপস্থিত হননি। এখন উচ্চ আদালতে আপিল করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তাদের পক্ষে থাকবে।’</p>



<p>রায়ের বিষয় জেনে আবিদের আত্মীয় এডভোকেট রেদোয়ানুল হক শাকিল চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আদালত থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলন করে হাইকোর্টের ছুটি শেষ হলেই আমরা আপিল করবো।’</p>



<p>উল্লেখ্য, মামলার এজহারভুক্ত আসামি ছিলেন চমেক ছাত্র সংসদের ভিপি মফিজুর রহমান জুম্মা, চমেক ছাত্রলীগ সভাপতি সোহেল পারভেজ সুমন, সাধারণ সম্পাদক বিজয় সরকার, চমেক ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হিমেল চাকমা, ফেরদৌস রাসেল, শান্ত দেব নাথ, রাশেদুর রহমান সানি, দেবাশীষ চক্রবর্তী, সালমান মাহমুদ সিদ্দিকী রাফসান, মাহফুজুর রহমান দিমান, মোস্তফা কামাল, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ইশতিয়াকুল ইসলাম খান, ওহিদুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, নাভিদ আঞ্জুম তানভির, আসিফ কামাল, ইরফানুল হক শুভ, সিরাজুল আমিন, এসএম হারুনুর রশিদ, মিনহাজুর রহমান এবং সাইফুল আমিন। এদের প্রত্যেকেই কেউ চমেকের তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা, আবার কেউ ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদের নেতা ছিলেন।</p>



<p>মফিজুর রহমান জুম্মা, সোহেল পারভেজ সুমন, বিজয় সরকার, হিমেল চাকমা, ফেরদৌস রাসেল, শান্ত দেবনাথ, মাহফুজুর রহমান, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, দেবাশীষ চক্রবর্তী, মোস্তফা কামাল, রাশেদুর রহমান সানি ও সালমান মাহমুদ রাফসানকে অভিযুক্ত করে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে আদালতে। এজাহারভুক্ত বাকি ১০ আসামিকে অভিযোগপত্র থেকেই অব্যাহতি দেয় পুলিশ।</p>



<p>আবিদের বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবিদ ছাত্রদলকে গোছাতে সক্রিয় ছিলেন। কারণ তখন ছাত্রদলের চমেক কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। যা সহ্য করতে পারেননি চমেক ছাত্রলীগের নেতারা। তাকে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর দুপুর ২টা, সন্ধ্যা ৭টা ও রাত ১০টায় তিন দফা নির্যাতন করে। নির্যাতনের পর সুযোগ না দিয়ে আবিদকে তার বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। যা আবিদ হত্যা মামলার এজাহারেও উল্লেখ আছে।</p>



<p>চার বোন তিন ভাইয়ের সাবার ছোট ছিল আবিদ। চকরিয়া উপজেলার বড়ইতলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে তিনি চমেকে ভর্তি হয়েছিলেন। আবিদ মেজ বোন মোরশেদা ইয়াসমিন, ছোটবোন রায়হান জান্নাত আর বড় বোন সাজেদা ইয়াসমিনের ছেলে শাফকাতকে নিয়ে নগরীর চকবাজার এলাকার ডিসি রোডে বসবাস করতেন। মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর আবিদ ছাত্রাবাসে উঠেন। কিন্তু বাসা ছাড়েননি। এরই মাঝে মেজ বোনের বিয়ে হলে তিনিও পাশাপাশি বাসা নিয়ে বসবাস করতেন। আবিদ মারা যাওয়ার পর তার আরেক বন্ধুকে দিয়ে তার লাশ ছাত্রলীগ নেতারা মেজ বোনের বাসায় পাঠায়।</p>



<p>সেদিনের স্মৃতি হাতড়ে আবিদের মেজ বোনের স্বামী কামরুল হাসান সোহেল চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘১৯ অক্টোবর ২০১১ আমার শ্বশুর বাড়ি এলাকার সালমান নামের এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে আবিদকে ছাত্রলীগ বাসায় পাঠায়। সালমান ভয়ে কথা বলতে পারছিলোনা। শুধু বলেছিল, আবিদকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখলাম তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। তখন চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। ছাত্রলীগ মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে দেয়নি। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিই। সেখান থেকে আবার চমেক রেফার করে। দুই দিন অজ্ঞান থাকার পর ২১ অক্টোবর আবিদকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।’</p>



<p><em>এই</em> <em>প্রতিবেদন</em> <em>১০</em> <em>অক্টোবর</em> <em>২০১৯</em> <em>চট্টগ্রাম</em> <em>প্রতিদিনে</em> <em>প্রকাশিত</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%9a%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>‘হোয়াইট গোল্ডের’ সর্বনাশ হচ্ছে হালদার ডিমের পানিতে</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 03 Oct 2023 17:21:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Environment & Climate Change]]></category>
		<category><![CDATA[Exclusive]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1370</guid>

					<description><![CDATA[প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননে দেশের একমাত্র নদী চট্টগ্রামের হালদা। হালদায় কার্প বা রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে এবার সর্বোচ্চ সাড়ে ২৫ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। কার্পজাতীয় মাছের ডিম আহরণ করতে গিয়ে ‘হোয়াইট গোল্ড’ খ্যাত চিংড়ি মাছের পোনা ধ্বংস হয় অবহেলায়। হালদা নিয়ে গবেষক, গবেষণা, গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ কোনো কিছুরই কমতি নেই। &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be/"> <span class="screen-reader-text">‘হোয়াইট গোল্ডের’ সর্বনাশ হচ্ছে হালদার ডিমের পানিতে</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p>প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননে দেশের একমাত্র নদী চট্টগ্রামের হালদা। হালদায় কার্প বা রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে এবার সর্বোচ্চ সাড়ে ২৫ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। কার্পজাতীয় মাছের ডিম আহরণ করতে গিয়ে ‘হোয়াইট গোল্ড’ খ্যাত চিংড়ি মাছের পোনা ধ্বংস হয় অবহেলায়। হালদা নিয়ে গবেষক, গবেষণা, গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ কোনো কিছুরই কমতি নেই। আছে গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার পাওয়ার সুযোগও। কিন্তু মৎস্য রপ্তানির সর্বোচ্চ খাত চিংড়ির পোনা সংরক্ষণে নেই কোনো উদ্যোগ।</p>



<p>চলতি মৌসুমে ডিম সংগ্রহের পর দুটি হ্যাচারিতে নিয়োজিত স্থানীয় পোনা উৎপাদনকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেলো ভয়াবহ তথ্য। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, ডিম সংগ্রহের মূল সময়টাতে ডিমের সাথে চিংড়ি পোনা থাকে ১০ থেকে ২০ ভাগ। আর যখন ডিম কম ছাড়ে, তখন কার্পজাতীয় ডিমের সমপরিমাণ চিংড়ি পোনা তাদের জালে উঠে আসে।</p>



<p>রাউজানের ওসমান আলী ছোটকাল থেকেই হালদায় ডিম আহরণ আর মাছ শিকার করেই জীবন কাটানোদের একজন। তিনি বলেন, ‘বাগদা, গলদাসহ কয়েক রকম চিংড়ি পোনা আমাদের জালে আসে। ডিম হ্যাচারিতে নেওয়ার পর ওগুলোর তেমন যত্ন নেওয়া হয় না। আবার কেউ কেউ পুকুরে নিয়ে জাল পরিষ্কার করে। এতে তাদের জালে আসা চিংড়ির পোনা পুকুরে বেড়ে ওঠে। ওরা লাভবান হয়।’</p>



<p>বংশ পরম্পরায় হালদায় ডিম আহরণকারী হাটহাজারীর সমীর বড়ুয়া চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, এ বছর তার পুকুরে মাছ চুরি করতে এসে বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলেছে চোরের দল। পুকুরের চিংড়ি পোনা ছাড়ার আগে তিনি প্রায় ৮০ হাজার টাকার চিংড়ি পোনা বিক্রি করেছেন। বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলা মাছের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ টাকার বেশি বলেও জানান পঞ্চাশোর্ধ সমীর।</p>



<p>হালদা গবেষক ও প্রবীণ অধ্যাপক ড. আলী আজাদীর গবেষণায় ওঠে আসে হালদায় ৯৩ প্রজাতির মাছ ও ক্রাস্টাশিয়ান্স রয়েছে। এর মধ্যেই চিংড়িই শুধু ৯ প্রজাতির। যার মধ্যে বাগদা ও গলদা অন্যতম। তিনি বলেন, ‘ডিম আহরণের সময় চিংড়িসহ অন্য পোনা যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য জেলেদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কার্পজাতীয় মাছের ডিম সংগ্রহের পাশাপাশি যদি চিংড়ি পোনা সংরক্ষণ করা যায় তবে দেশে চিংড়ি চাষের চিত্রও বদলে যাবে। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে আরো বেশি পরিমাণ চিংড়ি রপ্তানি করা যাবে।’</p>



<p>হালদার আরেক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘চিংড়ি পোনা নষ্টের বিষয়টি এতদিন আমাদের নজরে আসেনি। আমরাও কার্পজাতীয় মাছের ডিম নিয়ে ব্যস্তছিলাম। চিংড়ির দিকে ঠিক সেভাবে গুরুত্ব দিতে পারিনি। চট্টগ্রাম প্রতিদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের সামনে এনেছে। সংগৃহীত ডিম হ্যাচারিতে ছেড়ে দিয়ে জাল যদি নদীতে ধুয়ে নেওয়া হয়, তবে নদীর চিংড়ি নদীতেই বেড়ে উঠবে। আমরা আগামী মৌসুমে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেবো।’</p>



<p>রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে। চিংড়ি রপ্তানি ক্ষেত্রে ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও জাপানেও চিংড়ি রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৬১ মিলিয়ন ডলারের চিংড়ি রপ্তানি করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ ১৭৭ মিলিয়ন ডলারের চিংড়ি।</p>



<p>এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার দেওয়া তথ্য মতে, বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদা বাড়ছে। ২০১৪ সালে ৪৩ লাখ মেট্রিক টন চিংড়ির চাহিদা ছিল। ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চিংড়ির চাহিদা বেড়ে হয়েছে ৪৮ লাখ মেট্রিক টন।</p>



<p>রপ্তানি ছাড়াও দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে মৎস্য খাতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কৃষির অন্যান্য উপ খাত যেমন শস্য, প্রাণিসম্পদ ও বনের তুলনায় অনেক বেশি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিধানেও মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রায় ৬০ ভাগ প্রাণিজ আমিষের জোগান দেয় মাছ। যার বিশাল একটা অংশের যোগান দেয় চিংড়ি।</p>



<p><em>প্রতিবেদনটি</em> <em>ইতোপূর্বে</em> <em>চট্টগ্রামে</em> <em>প্রকাশিত</em> <em>হয়েছে</em><em>।</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/10/03/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আয়াতের খুনি শনাক্ত করে আরিয়ান ও তরী হত্যা মামলায় আশা দেখাচ্ছে পিবিআই</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/09/10/%e0%a6%86%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/09/10/%e0%a6%86%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 10 Sep 2023 19:52:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Human Rights and Crime]]></category>
		<category><![CDATA[Top News]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1439</guid>

					<description><![CDATA[চট্টগ্রামে শিশু সুরমা, বর্ষা ও আয়াতের খুনিরা খুব দ্রুত শনাক্ত হলেও অজানা রয়ে গেছে শিশু আরিয়ান এবং তরী হত্যার খুনিদের পরিচয়। আরিয়ান হত্যায় দুই বছর সময় গড়ালেও এখনো হয়নি কোনো কূলকিনারা। তরী হত্যাকাণ্ডেরও হয়ে গেছে দেড় বছর। এই দুই হত্যা মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। তবে সম্প্রতি শিশু আয়াত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/09/10/%e0%a6%86%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86/"> <span class="screen-reader-text">আয়াতের খুনি শনাক্ত করে আরিয়ান ও তরী হত্যা মামলায় আশা দেখাচ্ছে পিবিআই</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>চট্টগ্রামে শিশু সুরমা, বর্ষা ও আয়াতের খুনিরা খুব দ্রুত শনাক্ত হলেও অজানা রয়ে গেছে শিশু আরিয়ান এবং তরী হত্যার খুনিদের পরিচয়। আরিয়ান হত্যায় দুই বছর সময় গড়ালেও এখনো হয়নি কোনো কূলকিনারা। তরী হত্যাকাণ্ডেরও হয়ে গেছে দেড় বছর। এই দুই হত্যা মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। তবে সম্প্রতি শিশু আয়াত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে আরিয়ান ও তরী হত্যা মামলায় আশা দেখাচ্ছে পিবিআই।</p>
<p>গত বছর ২৭ জুন চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল মোড়ের নিজ বাসায় পাঁচ বছরের শিশু নুসরাত জাহান তরীকে রেখে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যান মা ফাতেমা বেগম। দুপুরে ফিরে খাটের নিচে সন্তানের লাশ পান ফাতেমা।</p>
<p>ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ইমন নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছিলো। কিন্তু পিবিআই তদন্তে ডিএনএ প্রোফাইল করে। ডিএনএ প্রোফাইলে ইমনের ডিএনএ’র সাথে না মেলায় পুলিশের তদন্তে নেয় ভিন্ন মোড়।</p>
<p>বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক (প্রশাসন) আবু জাফর মো. ওমর ফারুক বলেন, তরী হত্যা মামলা আমরা ছায়া তদন্ত করছি। তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। আশা করছি একটি সফল সমাপ্তিতে শিগগিরই আমরা পৌঁছাবো।</p>
<p>অপর দিকে ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার শাপলা আবাসিক এলাকার বায়তুল হুদা হাজী সুফিয়ান সাবেরা মাদ্রাসা গলি থেকে নিখোঁজ হয় ৬ বছরের শিশু মেহেরাজ ইসলাম আরিয়ান। ওই রাতেই তার মা মারজান আক্তার পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।<br />
এরপর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে হালিশহর থানা পুলিশ দারুল ফুরকান চট্টগ্রাম নামের এক মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষা প্লটে জমে থাকা পানি থেকে আরিয়ানের লাশ উদ্ধার করে। নিখোঁজ হওয়ার স্থান পাহাড়তলী থানা হলেও শিশুটির লাশ পাওয়া যায় হালিশহর থানা এলাকা থেকে। থানা দুটি হলেও স্থান দুটির দূরত্ব বড়জোর দুই’শ গজ।</p>
<p>আরিয়ানের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। তার পায়ের জুতোগুলো পায়েই ছিল। তবে ভিসেরা রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নেগেটিভ ছিল। তদন্ত সম্পৃক্তদের ধারণা, আরিয়ানকে তার নানার বাসার গলি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।<br />
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সম্ভাব্য সবগুলো বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত এগুচ্ছে। আশা করছি খুনিকে আমরা আইনের আওতায় আনতে পারবো।</p>
<p>অপরদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নগরীর বন্দর থানা পুলিশ পোর্ট কলোনীর একটি পরিত্যাক্ত ভবন থেকে শিশু সুরমার মরদেহ উদ্ধার করে। ১৩ অক্টোবর রাতে শিশু সুরমার খুনের দায়ে টিম বন্দর থানা রিকশাচালক ওসমান হারুন মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে। মিন্টু বিরিয়ানির লোভ দেখিয়ে শিশু সুরমাকে ধর্ষণ ও খুন করেছিল বলে স্বীকার করে।</p>
<p>গত ২৪ অক্টোবর বাসা থেকে ২০ টাকা নিয়ে বিস্কুট কিনতে বের হয়ে আর ঘরে ফেরেনি নগরীর জামালখানস্থ কুসুমকুমারী স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা হক বর্ষা। তিনদিন পর শিকদার হোটেলের পিছনের নালা থেকে শিশু বর্ষার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রভাবশালীরা বর্ষার খুনের ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করা চেষ্টা করলেও তৎকালীন এসি কোতোয়ালী মুজাহিদুল ইসলামের বিচক্ষণতায় টিম কোতোয়ালীর হাতে ওই রাতেই গ্রেপ্তার হয় খুনি লক্ষণ।</p>
<p>পরপর দুই মাসে দুটি শিশুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশে তুমুল ঝড় তুলে ইপিজেড থানার আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড। আয়াতকে ফুসলিয়ে নিয়ে তার দেহ ৬ টুকরো করে খুনি আবির আলী।<br />
১৫ নভেম্বর ইপিজেড থানার বন্দরটিলার নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। পরদিন এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তার বাবা সোহেল রানা। ইপিজিড থানার পাশাপাশি তদন্তে নামে পিবিআই।<br />
পিবিআই গত ২৪ নভেম্বর রাতে আবিরকে আটকের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি সপ্তাহব্যাপী সাগরপাড়ে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে শিশু আয়াতের শরীর বিভিন্ন অংশ।</p>
<p>শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা রহস্য উন্মোচন এবং খুনিকে আইনের আওতায় আনতে পারায় পিবিআইয়ের প্রতি আস্থার পারদ বেড়েছে আরও এক ধাপ। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা দেবশিশু আরিয়ান ও তরী হত্যার রহস্যও শিগগির উন্মোচন হবে। দোষীরা আসবে আইনের আওতায়।</p>
<p>তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, পিবিআই যে কোনো মামলা ত্রুটিমুক্ত তদন্ত করতে সব সময় সচেষ্ট। শিশু আরিয়ান ও তরী হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমাদের টিম কাজ করছে। ভাগ্য সহায় হলে আমরা দোষীদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাবো।</p>
<p><em>চট্টগ্রাম খবর—২৩ ডিসেম্বর ২০২২</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/09/10/%e0%a6%86%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সুপ্তি খুন, ভাত খেতে আসা ‘আঙ্কেল’কে খুঁজছে পুলিশ</title>
		<link>https://farukmunir.com/2023/08/10/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%86/</link>
					<comments>https://farukmunir.com/2023/08/10/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%86/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Faruk Munir]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 10 Aug 2023 20:16:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Exclusive]]></category>
		<category><![CDATA[Investigative Report]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://farukmunir.com/?p=1447</guid>

					<description><![CDATA[সুপ্তি খুন, ভাত খেতে আসা ‘আঙ্কেলকে’ খুঁজছে পুলিশ‘বুধবার দুপুর তিনটায় সুপ্তি আমাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আমার সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় ৩০ বছরের কাছাকাছি বয়সের এক যুবক আসার পর সুপ্তি আমাকে বলল উনি তার আঙ্কেল। আঙ্কেল ভাত খেতে এসেছেন, দুপুর ১২টায় এসে একবার বলে গিয়েছেন লাঞ্চ আমার বাসায় করবেন।’ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নাসিমা মঞ্জিলের &#8230;<p class="read-more"> <a class="" href="https://farukmunir.com/2023/08/10/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%86/"> <span class="screen-reader-text">সুপ্তি খুন, ভাত খেতে আসা ‘আঙ্কেল’কে খুঁজছে পুলিশ</span> Read More &#187;</a></p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সুপ্তি খুন, ভাত খেতে আসা ‘আঙ্কেলকে’ খুঁজছে পুলিশ‘বুধবার দুপুর তিনটায় সুপ্তি আমাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আমার সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় ৩০ বছরের কাছাকাছি বয়সের এক যুবক আসার পর সুপ্তি আমাকে বলল উনি তার আঙ্কেল। আঙ্কেল ভাত খেতে এসেছেন, দুপুর ১২টায় এসে একবার বলে গিয়েছেন লাঞ্চ আমার বাসায় করবেন।’</p>
<p>বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নাসিমা মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া ও খুন হওয়া সুপ্তি মল্লিকের প্রতিবেশী ফাতেমা পারভীন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে এমনই তথ্য জানালেন। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি ফাতেমা পারভীনের দেওয়া এই তথ্যও সুপ্তির খুনিকে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।</p>
<p>ফাতেমা পারভীন আরও বলেন, ‘তিনটার দিকে সে তার আঙ্কেলকে ভাত খাওয়ানোর জন্য যখন তার রুমে যাচ্ছিল তখন ডেকে আমাকে চা খাওয়াতে বলছিল। আমার মেয়ে চা বানিয়ে দিয়েছিল, আমি তাকে ডেকে দুই কাপ চা দিয়েছিলাম। বিকেল পাঁচটার দিকে যখন তার কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিলাম না তখন দরজায় বাড়ি দিলাম। দরজার বাইরে ঝুলানো পর্দা সরিয়ে দেখি বাইরে থেকে দরজাটি বন্ধ। তখন সিঁড়ির গোড়ায় গিয়ে তার নাম ধরে কয়েকবার ডেকেও কোনো জবাব পাইনি। এরপর পাশের বাসার ভাবী দরজার ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে দেখেন ভিতরে তার জুতা। তখন আমাদের সন্দেহ হলো, তার জুতা ভিতরে কিন্তু দরজা বাইরব থেকে বন্ধ কেন? আমরা অফিসে জানালে অফিস থেকে বাসার দারোয়ান ইলিয়াস আসেন।’</p>
<p>নাসিমা মঞ্জিলের দারোয়ান মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘আমি মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য ছোট মসজিদে গিয়েছিলাম। নামাজ শেষে ভবনের ইনচার্জ আজিজ সাহেবের ফোন পেয়ে চার তলায় গিয়ে দেখি ভাড়াটিয়া সুপ্তি মল্লিকের বাসার সামনে অন্যান্য মহিলাদের জটলা। ৫০ নম্বর রুমের বাসিন্দা ফাতেমাসহ দুইজনকে সুপ্তিদের বাসায় যেতে বলি। মহিলারা সুপ্তির গায়ে হাত দিয়ে মারা গেছে বলে ধারণা করেন। এরপর আমরা থানায় কল করলে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধা করার পাশাপাশি আলামত সংগ্রহ করেন।’</p>
<p>প্রসঙ্গত, চারতলা বিশিষ্ট নাসিমা মঞ্জিলে মোট ৬০ পরিবারের বসবাস। কিন্তু ওই ভবনসহ আশপাশের কোনো ভবনেই সিসি ক্যামেরার কোনো ব্যবস্থা নেই। সুপ্তি মল্লিকের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর প্রশাসনের চাপে বাড়ির মালিকরা সিসি ক্যামেরা লাগাচ্ছেন।</p>
<p>ডবলমুরিং থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সুপ্তি মল্লিককে গলা টিপে হত্যার আলামত পেয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুপ্তি মল্লিকের স্বামী বাসু দেব ও তার বড় ভাই অনুপম চৌধুরীকে ডবলমুরিং থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বাসু দেব একটি ফার্মেসিতে এবং তার ভাই সেলুনে কাজ করতেন। তাদের বাড়ি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে।</p>
<p>এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম বিভাগ) এসএম হুমায়ুন কবির চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সুপ্তি মল্লিককে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশপাশে তথ্যের পাশাপাশি আমরা প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে আমরা সুপ্তি মল্লিকের খুনিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’</p>
<p>তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্তি মল্লিক যাকে আংকেল বলে প্রতিবেশীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সেই ব্যক্তি কী আদৌ আঙ্কেল ছিলেন, নাকি আঙ্কেল পরিচয়ের আড়ালে অন্য পরিচয় আছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই আঙ্কেল সুপ্তির ঘনিষ্ঠজন হতে পারেন, আবার স্বামী কিংবা অন্য কেউ তথাকথিত আঙ্কেলকে তার বাসায় পাঠাতেও পারেন।’</p>
<p>সুপ্তি মল্লিকের ছোট ভাই প্রসেনজিৎ মল্লিক জানান, আগস্টের ১৪ তারিখ তার বোনের সাথে বাসু দেবের বিয়ে হয়। বাসু দেবের বড় ভাই অনুপমের বউয়ের ছোট বোনের সাথে বাসু দেবের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি বিয়ের ১০ দিনের মাথায় সুপ্তির কাছে ধরা পড়ে। দুর্গাপূজার সময় সুপ্তি বাপের বাড়ি কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা গেলে বাসু দেব তার সেই তালতো বোনকে নিয়ে বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরতে দেখেছেন লোকজন।</p>
<p>বোনের সাথে কারও কোন সম্পর্ক ছিল কিনা জানতে চাইলে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘আমার বোন রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে অনার্সে পড়ার সময় এক মুসলিম যুবকের সাথে সম্পর্ক ছিল। দুই থেকে আড়াই বছর আগে সেই সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে। আমরা বিয়ের আগে বাসু দেবকে তা জানিয়েছিলাম। তিনি সেটা কোন সমস্যা নাই বলে মেনেও নিয়েছিলেন।’</p>
<p>সুপ্তি মল্লিকের পিতা সাধন কুমার মল্লিক কর্ণফুলী পেপার মিলে চাকরি করতেন। ছয় বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। তিনি জানান, পুলিশের কাছ থেকে মেয়ের লাশ বুঝে পেলে চট্টগ্রাম নগরীর অভয় মিত্র শ্মশানে দাহ করবেন।</p>
<p>ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ জানান, ‘আমরা আমাদের তদন্ত করছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করলে তা আমলে নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে কে খুন করেছে, কেন খুন করেছে বিস্তারিত জানানো হবে।’</p>
<p>এর আগে ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ পানওয়ালা পাড়া থেকে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা মনজিল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।</p>
<p><em>চট্টগ্রাম প্রতিদিন : ৫ নভেম্বর ২০২০</em></p>
<p><em>(২০২১ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার নিশ্চিন্তপুর থেকে জাকির হোসেন নামে সুপ্তির সেই আঙ্কেলকে গ্রেপ্তার করে। জাকির আদালতে সুপ্তি হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়)</em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://farukmunir.com/2023/08/10/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%86/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
